পৃথিবী মায়ের সামনে এখন জলবায়ু পরিবর্তনাসুর, বঙ্গে শরৎঋতু উধাও। তবে, কাশের বনে দোলা লাগুক, বা না লাগুক, বাঙালীর মনে কিন্তু উৎসবের বাজনা বেজে যাচ্ছে। দুর্গাপুজো আমাদের ধর্মীয় উৎসব থেকে বহুদিনই সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ বদলে ফেলেছে।তাই নতুন জামা-জুতোর সঙ্গে, নতুন গানের অ্যালবাম , শারদীয় সাহিত্য ছাড়া বাঙালির পুজোর গন্ধটা ঠিকঠাক আসে না। বাংলার বাইরে থাকলেও বাঙালীর চরিত্র কিন্তু বদলায় না। ঠিক সময়ে তাই উৎসবের সাজে সেজে চলে এসেছে , ‘অপার বাংলা’র বিশেষ ‘শারদীয়া’ সংখ্যা।
নবজাতক থেকে সাবালক হয়ে উঠেছে ‘অপার বাংলা’ মাত্র তৃতীয় সংখ্যাতেই,যা একমাত্র সম্ভব হয়েছে লেখক পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের দু হাত বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার কারনে। যাঁর কাছেই গেছি আমরা, কেউ বিমুখ করেননি,যে যেভাবে সম্ভব পাশে দাঁড়িয়েছেন। সারা পৃথিবীতে যখন ভাঙনের মত্ততা,মানুষ যখন ভাষা ধর্ম সংস্কৃতিকে ভেঙে ছোট ছোট টুকরো করে তার চারপাশে সীমানা নির্দিষ্ট করে ফেলছে, নিজেদের গুটিয়ে শামুকখোলের নিরাপত্তায় জীবন কাটানোর ভাবনায় পাঁচিল তুলে ঘিরছে , তখন ‘অপার বাংলা’ ঠিক বিপরীত কাজটাই করে চলছে।
সারা পৃথিবীতে যত বাংলাভাষী আছেন,বাংলা অক্ষর যাঁদের তৃষ্ণার জল, তাঁদের একই সুতোয় গেঁথে সাহিত্যপ্রেমী, বইপোকা বাঙালীদের একটাই মালা তৈরি করতে চাইছে ‘অপার বাংলা’।
বলতে গর্ববোধ করছি, মাত্র তৃতীয় সংখ্যাতেই এই স্বপ্নপূরণের পথে অনেকটাই সফল এই ত্রৈমাসিক ওয়েবম্যাগটি।ভারত, বাংলাদেশ, উত্তর আমেরিকা, ইংল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা কৃতী লেখক লেখিকারা ‘অপার বাংলা’য় লিখছেন এবং ভবিষ্যতেও লেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এঁদের সকলকে পাশে পেয়ে আমরা ঋদ্ধ। বাদ বাকি দেশগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের মধ্যে অনেককেই আমরা সাথে পেয়েছি, যাঁদের কাছে এখনো পৌঁছাতে পারিনি খুব তাড়াতাড়িই পৌঁছে যাব আশা রাখি।
আমরা কয়েকজন মিলে একটা অনেক বড় স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস করেছিলাম। সেই স্বপ্নকে সাকার করে আমাদের সাহস আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের আগামী দিনগুলোতেও সঙ্গে পাব আশা রাখি।
উৎসবের দিনগুলো সকলের খুশিতে কাটুক আর এই দিনগুলোর মত জীবনের প্রতিমুহূর্তই হোক আনন্দযাপন।’অপার বাংলা’ পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের জন্য এই কামনা।
ধন্যবাদ,
শুভ নাথ
সম্পাদক
অপার বাংলা

