short-story-maru-kaka

মারু কাকা

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

আমাদের মুকুন্দপুর গ্রামে বাস করত কারুকাকা। পুরো নাম কিরণ চন্দ্র দাস, জাতে নাপিত। আমাদের গ্রাম থেকে মিনিট দশেক হাঁটলেই যে বাজার পরে, সেখানেই চুল কাটার দোকান ছিল কারুকাকার। রোজ রাত আট-টায় দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরত কারু কাকা। তারপর রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে কখনও নিজ দুয়ারে, আবার কখনও দোরগোড়ায় সে বসত বাঁশি বাজাতে। আহা, কী-যে তার সুর, কী মধুর সে বংশীধ্বনি! যখন বড় করে চাঁদ উঠত আকাশে, সেই বাঁশির সুর দিগন্ত থেকে দিগন্তে ভেসে যেত। আমার সেজোকাকা বলত, ঐ যে, সে বাজাচ্ছে; কারু বাজাচ্ছে। আহা, তার বাঁশির সুরে পরাণ জুড়ায়।

আমি বলতাম, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির মতন?

দু’চোখ বড় বড় করে সেজোকাকা বলত, সে কৃষ্ণের চেয়েও ভালো বাজায়। শুনে আমরা হাঁ। কৃষ্ণ যে একজন ভগবান তা কে না জানে! কৃষ্ণ যা কিছু করেন তার সবই মহৎ। এহেন কৃষ্ণের চেয়ে ভালো বাজাতে পারে, একি কম কথা! আমরা ছুটতাম কারুকাকার কাছে। আমাদের কথা শুনে কারু বলত, দূর! সুকুদার কেবল আবোল-তাবোল কথা।

তুমি নিশ্চয় কৃষ্ণকে দেখেছ।

তাঁর দেখা কি সবাই পায় রে, পায় না।

তবে অমন বাঁশি বাজাও কিসে?

সুকুদা বলেচ, এমনি।

গাঁয়ের আরো অনেকেই বলে।

বলুক, বলতে দে। কারও মুখ তো আর তুই বন্ধ করতে পারবি না। শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই জগত-সংসার নতজানু, সকলেই তাঁর কৃপার জন্যে ছুটছে, সেখানে আমি কে? আর কী-ই বা আমার বাঁশি!

তাহলে তুমি অমন সুন্দর করে বাজাও কী করে?

ও এমনি।

সব কিছু যে এমনি অমনি হয় না, সেটা কি আর আমরা বুঝি না? খুব বুঝি। কিন্তু সে কি করে অমনি বাজায় যে আকাশে চাঁদ না থাকলেও চাঁদ দেখা যায়? মেঘ না থাকলেও বৃষ্টি পড়ে? গুড়গুড় করে মেঘ ডাকে আর মানুষজন গরমের হাত থেকে বাঁচে।

কেউ একজন, খেলার মাঠে আমাদের বলল, কারু আসলে আমাদের জন্যে বাজায় না, কৃষ্ণের জন্যে বাজায়।

মানে! আমরা হাঁ। যে কথাটা বললে তাকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়াই। সকলেরই কোমরে হাত।

সে বলে, কৃষ্ণ এখন আর নিজে বাজায় না, সে বাজানো ছেড়ে দিয়েছে সেই কবে।

ছাড়ল কেন?

কৃষ্ণ বাঁশিখানা ভেঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছে কোথায় আর সেই ভাঙা বাঁশি যেখানে গিয়ে পড়েছে সেখানে নানান ফুলদল জন্ম নিয়েছে।  

কৃষ্ণ এমন করল কেন? রাধাই যে আর নেই…

আর কারু? সেই ফুলের রেণু নিজের বাঁশিতে মাখিয়ে কারু বাজায়।

কারু বাজাচ্ছে। কারু কেবল বাঁশিতে ফুঁ দেয় আর বাঁশিই নানান ভাবে নিজেকে ভেঙ্গে-গড়ে সুরকে প্রকাশ করে। তখন আমাদের গ্রামের মানুষজন অবাক বিস্ময়ে কারুকে, তার প্রতিভাকে প্রণাম করে। আর জনান্তিকে বলে, নাহ্, কারু না থাকলে আমরা কী যে করতাম! ওই যে আমাদের মনের দুঃখকে দূর করে, মনের ভেতর আলো আনে। মাঝে মাঝে রাত-বিরেতে কারু বাঁশি হাতে বেরিয়ে পড়ে।

কোথা যাচ্ছ, কারু?

এই যাচ্ছি, মাঠ পেরিয়ে, গণেশপুরের দিকে।

এখন কি সেখানে বাজাবে?

কারু হাসে।

কে বাঁশি শুনবে সেখানে?

এই, নদী-নালা, মাঠ-ঘাট-অরণ্য।

ওদিকে নদী কোথায়?

আছে তো।

কোন নদী?

কেন, যমুনা। পৃথিবীর সব নদীই তো যমুনা নদী, তাই না?

অমনি সকলে চুপ করে যায়। ভাবে, না। কারুর এলেম আছে। বাঁশির সুরে সে যেমন চাঁদকে আনতে পারে, তেমনি সেই যমুনাকেও এখানে টেনে আনতে পারে।

সেখানে কি কৃষ্ণ আসে?

কারু হাসে।

আসে?

সে খবর তিনি জানেন।

তুমি জানো না?

আমি কেবল বাঁশি বাজাই।

আর তিনি?

শোনেন।

কেবল শোনেন? বাজান না?

না।

কেন?

কি করে বাজাবেন। তিনি যে বাঁশি ভেঙ্গে ফেলেছেন।

আমাদের গ্রামে দোলের সময় অষ্টপ্রহর হরিনামের আসর বসে। অবাক ব্যাপার, কারু তার ধারে-কাছে যায় না। না সে কোনোদিন বসে কৃষ্ণনাম সুনেছে, না সে মূল গায়েনের সঙ্গে আলাপ জুড়েছে, না তাদের গানের কদর করেছে। গায়েনদের অনেকেই কারুর কথা জানে। তারা বলে, হ্যাঁ, যখন ঘুমিয়ে থাকি, ভোরের দিকে আমরা শুনেছি কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে। আর এমন অদ্ভুত, মন-মোহিনী সুর, যার কোনো তুলনা নেই। এমন সুর, এমন বাঁশি, যা কেবল কৃষ্ণের কথাই বলে, এমনটি আর কোথাও আমরা শুনিনি! আর মারু বলে, আমি কেবল রাতে বাজাই, দিনে তো বাজাই না; তাহলে হরিনামের দল শুনল কি প্রকারে? এটা শুনে হরিনামের মূল গায়েন বলে, তোমাদের এই বাঁশুরিওলা একজন আত্মনিষ্ঠ যোগী। সংসারে আছে বটে সে, কিন্তু তাতে আত্মনিষ্ঠ হওয়া আটকায় না। এই যোগীরাই শ্রীকৃষ্ণের সর্বাপেক্ষা প্রিয়। যারা কৃষ্ণনামে দীক্ষিত, তারা কারুর বড় ভক্ত। তারা বলে, কারুই কৃষ্ণকে পেয়েছে। তাই রাতে বাজালেও সারাদিনধরে সেই গানের রেশ থাকে। যারা আসল ভক্ত কেবল তারাই শোনে বাতাসে ভেসে ভেসে চলাচল করা সেই বাঁশির সুর।

আর আমরা যারা ছোটরা, কারুর পিছুপিছু ছুটি।

কারুকাকা বাঁশি শেখাবে?

শিখে কী করবি?

কৃষ্ণকে শোনাব।

বাঁশি খুব খারাপ জিনিস, শিখিস না।

কেন? খারাপ কেন হবে? তুমি কত সুন্দর বাজাও।

কারুকাকা বলে, ওসব হল ভুল, ওসব হল মায়া।

তবে তুমি যে বলো, বাঁশির সুর ছাড়া জীবনে আর কিছু নেই?

ঠিকই বলি। বাঁশি ছাড়া জীবন মিথ্যে, জীবন এক কষ্ট-কল্পনা।

তবে শেখাবে না কেন?

কেউ-ই সারাজীবন ধরে বাঁশি বাজিয়ে যেতে পারে না, কৃষ্ণই পারেনি। তখন জীবন আর জীবন থাকে না, অভিশাপ হয়ে ওঠে।

কে যেন বলে ওঠে, হ্যাঁ, গান্ধারীর অভিশাপ।

কারুর দুই মেয়ে। এক মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিল মাধ্যমিক পাশ করিয়ে। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় মেয়েটি বিধবা হয়ে, সঙ্গে দুটি বাচ্চা নিয়ে বাপের ভিটেয় ফিরে এল। এদিকে ছোট মেয়ে তখন মাথায় মাথায়, বিয়ের যুগ্যি হয়ে উঠেছে। তার বিয়ের খরচ কারু যোগাবে নাকি বিধবা মেয়ের ও তার বাচ্চাদের ভরণপোষণ করবে, এই নিয়ে তার মাথায় হাত। গ্রামের সামান্য বাজারে চুল কেটে কতই বা ইনকাম হয়। কিছু জমিজমা থাকলে হত। কিন্তু কই সেসব। কারুর দাদা চারু তাদের বাপ বেঁচে থাকতেই সব নিজের নামে করে নিয়েছে কারুকে ফাঁকি দিয়ে। তখনও কারুর বিয়ে হয়নি। ঘরের কাজকাম সে কিছুই করত না। কেবল সারাদিন বনে-জঙ্গলে, গণেশপুর, চৌঘরা, জিয়াড়া—এইসব গ্রামে ঘুরে বেড়াত আর বাঁশি বাজাত। চারু তার বাবাকে এইসব দেখিয়ে বুঝিয়েছিল, তুমি যদি জমিজমা আমার নামে না করে দাও, তাহলে কারু যেমন উড়নচন্ডী, সারাদিন খালে-বিলে, হাটে-বাটে বাঁশি বাজায়, বাঁশির টানে সে কোথায় না কোথায় বেরিয়ে যায়; ঈশ্বরের টান তো, কারু অস্বীকার করবে কী করে? এইভাবে দুই ভায়ের নামে হবার চেয়ে জমিজমা আমার নামে সব লিখে দাও, আমি কারুকে দেখব, যদি ও গ্রামে থাকে। তবে ওর মা মনোভাব তাতে বৃন্দাবনই ওর পক্ষে ভালো। নিদেনপক্ষে নবদ্বীপের কোনো আশ্রম।

যুক্তিটা ওদের বাপ নিবারণের মনে ধরে। অনেক কষ্টে করা জমি। সেসসব বেহাত হয়ে যাবে? কারুর নামে যদি কিছু করেও দেয় নিবারণ, সে চোখ বুজলে তা হয়ত কোনো মঠ বা মন্দিরে দান করে দেবে কারু। তারচেয়ে এই ভালো। এক ভাইয়ের নামেই থাক। চারু বিষয়ী লোক, সংসারী। আর যাইহোক জমিগুলি বেহাত হবে না। আর কারু যদি কোনোদিন বে-থা করে তখন তাকে নিশ্চয় কিছুটা জমি দিয়ে চারু ওকে সাহায্য করবে। একই মায়ের পেটে ভাই হয়ে একজন অন্যজনকে বেবাক ঝেড়ে ফেলে দিতে পারে না।   

এই সরল যুক্তির উপরে ভর করে নিবারণ জমি সব লিখে দেয়। বেশি নয়, বিঘে দুই জমি, সে জমি গরিবের কাছে কম নয়। এর মাস তিনেক পরে বার্ধক্যজনিত রোগে নিবারণ মারা যায়।

না, বাপের মৃত্যুর পরে কারু কোথাও যায় না; দীক্ষাও নেয় না। সে মাছ খেতে ভালোবাসে, দীক্ষা নেবে কী প্রকারে? পরে বিয়েও করে কারু, বাঁশিও থাকে তার। তবে সর্বক্ষণ বাঁশি নিয়ে তার টইটই করাটা কমে যায়, প্রথম প্রথম সকাল-সন্ধে নিয়ম করে সে বাজাত, পরে সন্ধের সময়টাই নির্দিষ্ট হয়ে যায়; সকালবেলাটা সংসারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে সে। তারপরে সেলুনে যায়। সেলুনের নাম দিয়েছে ‘রাধাকৃষ্ণ সেলুন’। যারা চুল কাটতে আসে তারা বলে, এবার কৃষ্ণনামটা নিয়ে নাও কারু।

কারু হাসে।

এত বড় ভক্ত তুমি, ইশ্বরের এত কাছাকাছি থাক, এবার দীক্ষা নিয়ে শরীর শুদ্ধ করো। আমরা কবে নিয়ে নিলাম, নিয়মিত জপ করি আমরা, গুরুর কথা মেনে চলি, সেখানে তোমার তো এই কাজ আরও আগে করার কথা ছিল।

বিধবা হয়ে বড় মেয়ে ফিরে এসেছে। সংসারের প্রবল চাপ। ছ-ছটা পেট! সংসার চলাই দুষ্কর। ওর দাদা কোনোদিনও কারুকে এক পয়সা দিয়ে সাহায্য করে নি, আজও সে এগিয়ে এল না। কারু নিজের কাজ করে, আর নিত্য সন্ধের পরে বাঁশি বাজায়। বাঁশি বাজানোয় তার কামাই নেই। সারা গ্রাম, সংসার তার গানে যেন মুক্তি পায়; কিন্তু সংসারের যে বন্ধনে সে জড়িয়েছে, তা থেকে তার মুক্তি নেই। হয়ত কারু মুক্তি চায়-ও না; সে এমনি করেই আবর্তিত হতে চায়; তার মুক্তি এক জায়গাতেই, বাঁশি বাজানোয়। এমনি করে এক বছর চলার পরে, সংসার চালাতে না পেরে কারুর বউ মিনতি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এরপরেই কারু যেন দিশেহারা হয়ে গেল। সে বাঁশি বাজানো ত্যাগ দিল, সারাক্ষণ ভেবে যেতে লাগল, সংসার কিভাবে চলবে, মেয়েদের মুখে, তার বাচ্চাদের মুখে কিভাবে দুটি অন্ন তুলে দেবে। কারুর অবস্থা শেষে এমন দাঁড়াল যে, সে-যে একদা বাঁশি বাজাত, তা যেন ভুলে গেল। গ্রামের লোকও কারুর এই অবস্থায় অবাক। যে কারু এতটুকু অবস্থা থেকে বাঁশিতে সুর তুলে আসছে, সে-যে এমন সুরবিহীন, নির্বাক হয়ে যাবে, তা গ্রামবাসীরা কল্পনাতেই আনতে পারেনি। এ এক অসহনীয় অবস্থা তাদের। গ্রামের সবাইকে কারু যেন চুপ করিয়ে দিয়েছে।

তবুও গ্রামের দু-একজন তাকে বলে, বাঁশিটা আবার শুরু করো না কেন কারু, তোমার মন হালকা হবে, আর আমাদেরও ভালো লাগবে।

কারু বিড়বিড় করে বলে, তা আর হয় না।

তোমার বাঁশিখানা কোথায়?

অম্লান বদনে সে বলে, ফেলে দিয়েছি।

গ্রামের লোক থমকে যায়। তারপরে বলে, আমরা একটা ‘মুকুল বাঁশি’ তোমাকে যোগার করে দিচ্ছি; তুমি প্রাণ খুলে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজাও।

কারু কোনও উত্তর করে না।

এরপরে কারু একদিন হঠাৎ উধাও হয়ে গেল। ফিরল দিন পনেরো পরে। তখন তার পরনে ইঞ্চিপাড়ের সাদা ধুতি, সাদা পাঞ্জাবি, গলায় তুলসির মালা, কপালে রসকলি, মাথা নেড়া। গ্রামের লোক অবাক। কারু কোথায় গিয়ে দীক্ষা নিয়ে এল, তার গুরু কেন, এসব জানার কৌতুহল থাকলেও তারা কারুকে সে প্রশ্ন করতে সাহস পায় না। কারুকে কেমন যেন যন্ত্রের মত লাগে। এই বেসবাস, এই নামজপ—কারুর ক্ষেত্রে যেন প্রযোজ্য নয়; এই বেশে, এমন অবস্থায় তাকে খুবই বেমানান লাগে। আর পাঁচজন সাধারণ দীক্ষাধারীর মতই লাগে তাকে। এমনধারার কারুকে তারা চায়নি। সে কারও সঙ্গে কথা বলে না, নিজের কাজের সময়টুকু বাদে সে সর্বক্ষণ মালা গুনে যায়। আর রাত হলে, সে গুটিগুটি পায়ে গ্রাম ছাড়িয়ে হেঁটে যায় দখিনপাড়ার দিকে। ওদিকে পুরো মাঠ। মাঠ পেরোলেই গণেশপুর গ্রাম।

গ্রামের লোক পরেরদিন সকালে তাকে বলেছে, একা একা নিশুতি রাতে মাঠে যেতে ভয় করে না কারু?

কারু উত্তর করে, ভক্তের আবার ভয় কী?
আর উদ্বেগ? ওসবও কি নেই তোমার?

না-হে। ভয় বলো আর উদ্বেগই বলো, কোনোকিছুই আমার মধ্যে আর কাজ করে না।

গ্রামের লোক কয়েকদিন তার পিছুপিছু গিয়েছে। একাকী, বাঁশিছাড়া কারু এই নিশুতি রাতে মাঠে যায় কেন? কী করে সে সেখানে?

কিন্তু কারুকে অনুসরণ করে তারা বেশিদূর যেতে পারেনি। খানিকটা গিয়ে তাদের থেমে যেতে হয়েছে, কোনো এক অজানা কারণে তারা এগোতে পারেনি। পা সামনে বাড়তে গেলে তা পিছনে টেনেছে। স্বভয়ে তারা ফিরে এসেছে। নিজের ঘরে ফিরে বালিশে মাথা রেখে তারা শুনেছে এক অলৌকিক বাঁশির সুর। বুকে কাঁপন তোলা, হিল্লোল তোলা সেই বাঁশির সুর। হা কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, আহা কৃষ্ণ। এই ছিল কারুর বাঁশির সুর। কিন্তু নিশুতি রাতের এই বাঁশি অন্য কথা বলে। বলে, রাধে-রাধে, হে রাধে।

গ্রামের লোক স্থির জানে কারু এখন আর বাজায় না; কারুর বাঁশির সুর এমন নয়, কারু নিজের বাঁশি ফেলে দিয়েছে কোথায় কে জানে! তবু তার বাঁশিই বাজে। কে জানে তার ফেলে দেওয়া বাঁশি তুলে নিয়ে কে বাজায়। কে জানে সে কোথাকার কোন এক মাখন চোর।

            

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *