binodan-smritir-studiopara-part-19

স্মৃতির ষ্টুডিও পাড়া – পর্ব ১৯
আমি কী বোকা না! আর্তনাদের মত শোনায় তাপসদার কণ্ঠস্বর
প্রিয়ব্রত দত্ত

ঘরোয়া মুডে স্ত্রী নন্দিনী ও মেয়ে সোহিনীর সঙ্গে


২০১৪ সালের জুন মাস। সম্ভবত ১৪ জুন। নদীয়ার নাকাশিপাড়া থানার চৌমাহা গ্রামে একটি জনসভায় সাংসদ তাপস পাল আচমকা মন্তব্য করে বসলেন, ‘যদি বিরোধী কেউ থেকে থাকেন, শুনে রাখুন, যদি এই গ্রামে আমাদের মা, বোন, বাচ্চা, চাচা, চাচি – কারও গায়ে হাত পড়ে, এই তাপস পাল ছেড়ে কথা বলবে না। আমাদের ছেলেদের ঘরে ঢুকিয়ে দেব রেপ করে চলে যাবে। …আমার ছেলেদের ঢুকিয়ে দেব, রেপ করে চলে যাবে। রেপ করে চলে যাবে।’

মুহূর্তের মধ্যে ওই জনসভার ভিডিও ক্লিপিং ভাইরাল। আগুন জ্বলে উঠল গোটা বাংলায়। এমনকী দেশের আনাচে কানাচেও। ঝড় উঠল সংসদেও। দাবি উঠল, অবিলম্বে খারিজ করতে হবে তাপস পালের সাংসদ পদ। আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে তাপস পালকে। 

তাপসদা অচিরেই বুঝলেন বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছেন। খুব দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে হবে। বললেন, ‘দলীয় কর্মীদের মার খাওয়ার পর মাথা গরম করে এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছি। আমি দেশবাসীর কাছে ওই উক্তির জন্য ক্ষমা চাইছি।’ 

কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজল না। তাপস পালের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনার প্রস্তুতি তো শুরু হলই, সেই সঙ্গে অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই যাতে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়, তার জন্য একযোগে চেষ্টা চালাতে শুরু করল বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম। যদি উনি সংসদে পা রাখেন, তাহলে বাকি সব দলের মহিলা এমপি-রা একযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ব্যারাকিং’ করবেন এমনটাও স্থির হল।

দলের একাংশের কাছেও বিরাগভাজন হয়ে উঠলেন তাপস পাল। ক্রমশ কোণঠাসা হতে লাগলেন অভিনেতা-সাংসদ। কুঁকড়ে গেলেন নিজেও। সেই দুর্দান্ত দাপুটে নায়ক পিন ফোটানো বেলুনের মত চুপসে গেলেন। অনুতপ্ত তাপসদা হাতড়ে বেড়াতে লাগলেন তাঁকে বোঝার মত মানুষ। কিন্তু দু-একজন বাদে মুখ ফিরিয়ে নিল তাঁর ঘর অর্থাৎ টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মানুষরাও। এই দুই একজনের মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাপসদার অভিন্নহৃদয় বন্ধু। দুই বন্ধুর মধ্যে তখন কী কথা হয়েছিল, তা জানা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা ওঁদের ব্যাক্তিগত বিষয়। তবে বুঝতে পারতাম তাপসদা ভয়ঙ্কররকম মানসিক দ্বন্দ্বে রয়েছেন। 

একদিন এক ফিল্মি পার্টিতে দেখা হয়ে গেল তাপসদার সঙ্গে। ভূমিকাহীনভাবে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি কি রাজনীতি ছেড়ে দেবার কথা ভাবছ?’ চমকে তাকালেন আমার দিকে। ঘাবড়ে গেলাম। ভুল জায়গায় ভুল প্রশ্ন করলাম না তো? তারপরেই ফিক করে হেসে ফেললেন তাপসদা। যেটা বললেন, তার জন্যও প্রস্তুত ছিলাম না। কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘আমাকে সবাই মুরগী ভেবেছিস না!’ আর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে অন্যত্র সরে গেলেন। 

কিন্তু দুঃসময় যে তাপস পালের সঙ্গ ছাড়েনি, তা বোঝা গেল বছর দুয়েক পর। রোজ ভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাপস পালকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। রোজ ভ্যালি গ্রুপ নামক একটি চিটফান্ড সংস্থার কাছ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও সংস্থার ফিল্ম ডিভিশনের ডিরেক্টর পদে থাকাকালীন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাপসদাকে। সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যৌথভাবে এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করছিল। কলকাতার সল্টলেকের সিজিআই কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর  গ্রেপ্তার হন তাপস পাল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ভুবনেশ্বরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। 

প্রায় এক বছরের বেশি কারাবাসে কার্যত মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন তাপস পাল। বস্তুত অসুস্থতার কারণেই জামিন পান তিনি। কলকাতায় ফিরে নিজেকে পুরোপুরি গৃহবন্দি করে ফেলেন তাপসদা। একদিন শহরের এক অনুষ্ঠানে তাপসদার মেয়ে সোহিনীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। জিজ্ঞাসা করলাম তাপসদার কথা। কেমন আছেন তিনি। সোহিনী হাতজোড় করে বলল, ‘প্লিজ তোমরা কেউ আর বাবাকে ডিসটার্ব কোরো না।’ 

বাংলা ছবিতে তাপস পালের মেয়ে সোহিনীর ডেবিউ হয়েছিল বেশ হইহই করেই। কিন্তু খুব একটা দাগ কাটতে পারেননি সোহিনী। চলে যান মুম্বইয়ে। সেখানে টুকটাক কিছু কাজ করলেও কাঙ্খিত সাফল্য অধরাই থেকে যায় তাপস-কন্যার। তারপর একদিন হঠাৎ শুনি সোহিনী নাকি আমেরিকায় থাকে। 

বিয়ের অ্যালবাম - তাপস পাল ও নন্দিনী পাল


স্বেচ্ছায় নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেললেও লড়াকু মানুষটি মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছিলেন অভিনয়ের জগতে ফিরে আসার জন্য। রাজনৈতিক সংস্রব পুরোপুরি ত্যাগ করেছিলেন। সর্বক্ষণের সঙ্গী বলতে স্ত্রী নন্দিনী ও তাপসদার পোষ্য সারমেয়র দল। তবে শরীর যে তাঁর এতটুকু ভালো নেই, স্টুডিও পাড়ায় পা দিলেই জানা যেত। দেখতাম বেশ কয়েকজন তাপসদার এহেন পরিণতিতে বেশ খুশি। দেখ কেমন লাগে – টাইপের মনোভাব ওই সুবিধাবাদী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চোখে-মুখে, শরীরী ভাষায়। অথচ তাপসদার ঔদার্য্যেই এখন ওঁদের ইন্ডাস্ট্রিতে রমরমা। যে মানুষটা একদিন সবার আপদে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাঁকেই কেমন দ্রুত ভুলে যেতে লাগল সবাই।

যদিও এই নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে যে, তাপসদাকে সবাই ভুলে যাচ্ছিল না, ভোলানো হচ্ছিল। অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘দেখবেন… তাপসদা যখন প্রকাশ্য সভায় ওই রকম বিতর্কিত মন্তব্য করছিলেন, তখন সবাই হাততালি দিয়ে তাপসদাকে উৎসাহিত করছিলেন। ওঁরা কারা? ওঁরা কি প্রকৃতপক্ষে তাপসদার মিত্র না শত্রু? ওঁদের আইডেনটিফাই কেউ করল না কেন?’ উত্তরহীন প্রশ্ন।

সেই রকমই কোনও প্রশ্নেরই উত্তর পাব না ধরে নিয়েই পার্পল স্টুডিওতে পা রাখা। তাপসদাকে দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আবার সেই পুরনো আন্তরিকতার ছোঁয়া পেয়ে আপ্লুতও হয়ে গেলাম। বৃদ্ধ পিতার চরিত্রে অভিনয় করছেন তাপসদা। আগের পর্বেই বলেছি। আর পুনরাবৃত্তি করছি না। বেশ কয়েকটা শট দিলেন। চুপ করে দাঁড়িয়ে তাপসদার অভিনয় দেখছি। দেখে বোঝাই যাচ্ছে শেষ সম্বল অভিনয়কে আঁকড়ে ধরে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে নেমেছেন তাপসদা। কিন্তু শরীর কাঁপছে। হাত কাঁপছে। সোজা হয়ে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারছেন না। তবুও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন উনি।

লাঞ্চ ব্রেক। আমরাও খাওয়া দাওয়া করতে গেলাম। ফিরে এসে শুনলাম সন্ধ্যের আগে তাপসদার আর শট নেই। আমি আর আজকালের সিনিয়র ফটো জার্নালিস্ট সুপ্রিয়দা ঢুঁ মারলাম তাপসদার মেকআপ রুমে। একটা চেয়ারে বসে ছিলেন। আমরা আসব কিনা দরজা ফাঁক করে মুখ বাড়িয়ে জানতে চাইলাম। আমাদের দেখে এক গাল হেসে, কাঁপা কাঁপা দু’ হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘আয়… আয়… তোরা… আমার দু’পাশে দুটো চেয়ার নিয়ে বোস। কত দিন পর নিজের মানুষের সঙ্গে দেখা হল বলতো? কেমন আছিস তোরা? আয় দুটো সুখ-দুঃখের গল্প করি তোদের সঙ্গে…।’

সুপ্রিয়দা জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার হাত দুটো এমন করে কাঁপছে কেন? পারকিনশন?’

মুচকি হেসে মাথা নামিয়ে কাঁপতে থাকা হাত দুটো দেখতে দেখতে বললেন, ‘পাপে… বুঝলি পাপে… আমার অহংকার হয়েছিল। ভিমরতিতে পেয়েছিল…।’

আমি মাঝখান থেকে বলে উঠলাম, ‘তুমি যখন কথাগুলো বলছো, একবারও মনে হয়নি, এর কী রিপার্কেশন হতে পারে?’

অসহায় দৃষ্টিতে তাপসদা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমার মাথায় তখন ভূত চড়েছিল। কী বলছি, কেন বলছি, কোথায় বলছি… সব বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি ভুল করেছি। ভুল বলেছি। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমি তখনও নাকাশিপাড়ার প্রত্যেক মা-বোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজও আমি ওঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। শরীরটা একটু সুস্থ হোক আমি নাকাশিপাড়ার প্রতিটা বাড়ি গিয়ে মায়েদের পা ধরে, বোনেদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইব।’

অভ্যাসবশত কথা শুরুর আগে মোবাইলের রেকর্ডারটা অন করে দিয়েছিলাম। হাতেই মোবাইলটা ধরা ছিল। সুপ্রিয়দা বলল, ‘অনেক দেরি হয়ে গেছে, তাপসদা।’

তাপসদা সুপ্রিয়দার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললেন, ‘মানছি। কিন্তু ওঁদের কাছে না গেলে যে মরেও শান্তি পাব না। এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত আমাকে করতেই হবে।’

আমি বললাম ‘সেটা কি করোনি, এই হাজতবাস কি অভিপ্রেত ছিল?’

সামান্য ঝুঁকে কাঁপা কাঁপা বাঁ হাতটা বাড়িয়ে আমার ডান হাতটা ধরে তাপসদা প্রায় কান্নাজড়ানো গলায় বললেন, ‘ওহ্… কী দুঃসহ প্রতিটা মুহূর্ত। কেউ খোঁজ নেয়নি আমার। কেউ না। নন্দিনীকেও কেউ ফোন করে জিজ্ঞাসা করেনি, আমি কেমন আছি। ভুবনেশ্বরে হাসপাতালে শয্যার পাশে দিনরাত এক করে একমাত্র নন্দিনী আমার সেবা যত্ন করেছে। ভরসা জুগিয়েছে। আইনি লড়াই লড়েছে। আর আমি একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছি। নন্দিনী আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। ও না থাকলে আমি বাঁচতাম না রে, প্রিয়।’

দৃশ্যত কাঁদছেন একদা বাংলা চলচ্চিত্রের দাপুটে নায়ক তাপস পাল। সুপ্রিয়দা উঠে গিয়ে মেকআপ ডেস্ক থেকে জলের বোতল এনে তাপসদার হাতে দিল। বোতলটা হাত থেকে পড়ে গেল। চরিত্রের কস্টিউম পরেই কথা বলছিলেন। সাদা ধুতি, হালকা নীল রঙের ফতুয়া, কাঁধের উত্তরীয়টা তখন কোলে। সেটাই কাঁপা হাতে দুচোখে চেপে ধরলেন। খানিকক্ষণ ওভাবে থেকে, মুখ তুলে সুপ্রিয়দার বাড়ানো জলের বোতল থেকে এক ঢোক জল খেয়ে বললেন, ‘মনে আছে প্রিয়, দাদার কীর্তিতে আমার একটা সংলাপ ছিল, আমি কী বোকা না? আয়নার দিকে তাকিয়ে এখন আমি নিজেকেই নিজে বলি, আমি কী বোকা না!’

চিটফান্ড কাণ্ডে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার সাংসদ তাপস পাল


তারপরে আমরা আরও ঘন্টাখানেক কথা বলেছিলাম তাপসদার সঙ্গে। উগরে দিয়েছিলেন সমস্ত গ্লানি, হতাশা, ক্ষোভ আর অভিমান। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে কেন, কিভাবে ওঁকে ফাঁসানো হয়েছিল সব। সেই কথোপকথনের একটি অক্ষরও আমি লিখতে পারব না। সাংবাদিকদের পেশার খাতিরে হোক বা তাগিদে কিংবা ঘটনাচক্রে এমন কিছু দৃশ্য, ঘটনা বা মন্তব্যের সাক্ষী থাকতে হয়, যা কোনওদিন প্রকাশ করা যায় না। করতে নেই। সেদিন তাপসদা, দল, তৎকালীন স্তাবক, কয়েকজন সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী ধান্দাবাজদের সম্বন্ধে যা বলেছিলেন শুনে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। কথা বলতে বলতে চেয়ার ছেড়ে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়েছিলেন তাপসদা। মনে হচ্ছিল বহুদিনের জমানো ক্লেদ উগরে খানিক স্বস্তি বোধ করছেন উনি।

সন্ধ্যে হয়ে গেছে। আবার শট দিতে যেতে হবে তাপসদাকে। ধীরে ধীরে উঠে বসলেন। নিজের ডান হাতের মুঠোর মধ্যে আমার ডান হাতটা ধরে কাকুতির স্বরে বললেন, ‘তোদের অনেক কথা বলে ফেললাম। আজ পর্যন্ত কাউকে বলিনি। প্লিজ লিখিস না প্রিয়। আমি আর নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে চাই না।’

বললাম, ‘এ কী লেখার বিষয়, তাপসদা। তুমি নিশ্চিন্ত থাক, যা বলেছ তার একবর্ণও কোথাও কোনও দিন প্রকাশ হবে না। কথা দিলাম।’

আমার আশ্বাস শুনে তাপসদার মুখে সেই অমায়িক হাসি। বললেন, ‘আজ কিছু খাওয়াতে পারলাম না তোদের। একদিন বাড়িতে আয়। খাওয়াব। আর আড্ডা মারব।’

রাত ১১টা। সুপ্রিয়দার ফোন। ‘প্রিয়, তাপসদা ফোন করেছিল। আবার বলল… তুই যেন কিছু লিখিস না। আমি বললাম, ক্ষেপেছ নাকি। ওই সব বিস্ফোরক কথা লেখা যায় কখনও। আবার বলছি, আমরা আজ যা শুনলাম তা আমাদের মধ্যেই থাকবে। তুমি নিশ্চিন্ত থাক।’ ফোন রেখে শুতে গেলাম।

রাত পৌনে একটা। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল। দেখি আননোন নম্বর। ধরলাম। ধরে চমকে গেলাম।

‘হ্যালো… আমি তাপসদা বলছি রে, প্রিয়।’

‘হ্যাঁ বলো… শরীর ঠিক আছে তো?’

‘প্রিয় যা বলার তোকে ছোট ভাইয়ের মত মনে করি বলে বলে ফেলেছি। কোথাও লিখিস না প্লিজ।’

‘এ বাবা না… আমি কোথাও লিখব না, দাদা। এই জন্য তুমি এত রাতে ফোন করছ?’

‘সরি…সরি…ভেরি সরি… মাঝরাতে বিরক্ত করছি… ভাই রে তোর দুটো পায়ে পড়ি…’

‘তাপসদা কী বলছ তুমি… পাশে আমার মা শুয়ে আছে। জেগে আছে। মায়ের গায়ে হাত রেখে বলছি, যা বলেছ তার এক বর্ণও কেউ জানবে না… তুমি নিশ্চিন্তে এবার ঘুমোতে যাও দাদা…’

‘ওকে থ্যাঙ্ক ইউ ভাই…’

তার ঠিক মাসতিনেক পরে ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ সালে মুম্বইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাপস পাল। আমেরিকায় মেয়ের কাছে যাবেন বলে রওনা হয়েছিলেন কলকাতা থেকে। মুম্বই এয়ারপোর্টে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেদিন ছিল ১ ফেব্রুয়ারী। ভর্তি করানো হয় জুহু হলিকস হাসপাতালে। সেখানে ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষে শেষ পর্যন্ত হেরেই গেলেন তাপসদা। নন্দিনীবউদি সহ অনেকেই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন।

কিন্তু তাপসদার এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য আসল গাফিলতি কোথায় ছিল, সে প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে চলেছে টলিউড ও তাঁর যথার্থ বন্ধুরা। আমাকে আর সুপ্রিয়দাকে উত্তরটা দিয়ে গিয়েছিলেন নায়ক স্বয়ং। তাপসদার এহেন করুণ পরিণতির একটাই কারণ, তাঁর বোকামি। এখন পার্পল স্টুডিওতে বসে তাপসদার কাঁপা কাঁপা গলাটা কানে বাজে, ‘আমি কী বোকা না!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *