বাঙালি এখন বাংলা ক্যালেন্ডারের খোঁজ করে পুজো-আচ্চা কিংবা বিয়ে-অন্নপ্রাশনের তিথি দেখার সময়ে। বাকি বছরটা বাংলা সন তারিখ ব্রাত্যই থাকে। খবরের কাগজে বা বাংলা পত্রিকায় বাংলা তারিখ লেখার চল এখনও আছে, তবে তা চোখে পড়ে কজনের! কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ব্যাপারটা রয়েই গেছে, তার কলেবর ক্রমাগত ক্ষীণ হতে থাকলেও এখনও সে টিকে আছে, কারণ এটা বাঙালির ঐতিহ্য।
একদিনের জন্য হলেও বাঙালি পুরুষ সাজে ধুতি-পাঞ্জাবিতে, মেয়েরা শাড়িতে। বাড়িতে হয় বাঙালি রান্না, রেস্টুরেন্টগুলোর স্পেশাল মেনুতে ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া বাঙালির হেঁসেলের গন্ধ। একদিনের জন্য হলেও ঐতিহ্যকে বহন করা, শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা অবশ্যই শুভ। অপারবাংলা প্রকাশিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র আটলান্টা থেকে। প্রবাসেও বাঙালি নববর্ষ নিয়ে প্রবাসীদের উদ্দীপনা আশা জাগায় বাঙালি সংস্কৃতি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
এই বৈশাখ বহুগুণ উতপ্ত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগুন নেভেনি এখনও, গাজাতেও ছাইচাপা আগুন, তার মধ্যে ইরানের যুদ্ধ আগুনের হলকা ছড়াচ্ছে। এই আগুন কতদিনে নিভবে, কেউ জানে না। সারা পৃথিবী জুড়ে শুধু অধিকারের লড়াই, আগ্রাসনের হুমকি। সবাই শুধু পেতে চায়, না পেলে যে কোনো প্রকারে আদায় করে নিতে চায়। এর মধ্যে মানবধর্ম কোথায়? মায়া-মমতা, ভালোবাসা, করুণা এইসব শব্দ কী শেষ অবধি বইয়ের পাতাতেই থাকবে? কে জানে! আমরা শুধু জানি পৃথিবীর এখন গভীর অসুখ, মানুষেরও।
এসবের মধ্যেই মানুষের মতো বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, সুস্থ সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইটাও জারি রাখতে হবে। ‘অপারবাংলা’ সেই উদ্যোগে সামিল, সঙ্গে আছেন আপনারাও।
সামনেই আসছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় বাঙালি সম্মেলন, নর্থ আমেরিকা বেঙ্গলি কনফারেন্স (https://www.nabcapp.com)। এই অধমের উপর ভরসা করেছেন কর্তৃপক্ষ, বইমেলা আয়োজন করার। ভালো সাড়া পাচ্ছি প্রকাশক দের কাছ থেকে। নববর্ষে এ এক বড় পাওনা। আগামী অপারবাংলা সংখ্যা তে এই নিয়ে বিশদে বলার ইচ্ছে থাকলো।
নববর্ষ অপারবাংলা সংখ্যা তে দীপান্বিতা রায় এর উপনাস্যিকা “আগুন পাখি” ভীষণ ভালো লেগেছে। আর আছে ছয়টি গল্প, পাঁচটা অণুগল্প, কবিতা গুচ্ছ, প্রবন্ধ, ফিচার, রম্য রচনা, অনুবাদ। নিয়মিত বিভাগে পড়ুন স্টুডিওপাড়ার ১৯ নম্বর পর্ব, রান্নাঘর, ভ্রমণ, ফিল্ম রিভিউ।
নতুন বছর সবার ভালো কাটুক।
আনন্দ হোক!
শুভ নাথ
সম্পাদক
অপারবাংলা ত্রৈমাসিক বাংলা সাহিত্য পত্রিকা

