ফিল্ম রিভিউ
অদিতি বসুরায়
ডার্ক কমেডি, ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অন্যতম জনপ্রিয় ধারা – টোস্টার ছবিতে সেই ধারাকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন পরিচালক, বিবেক দাশ চৌধুরী। গল্পের শুরুতে জানানো হয়, রমাকান্ত (রাজকুমার রাও) অত্যন্ত কৃপণ। সে পয়সা বাঁচানোর জন্য, প্রতিবেশি বন্ধু গ্লেনের ঘরে গিয়ে, বন্ধুর বয়স্ক মায়ের কাছে পাউরুটি খায়। তার সুগন্ধীর ব্যবসা। স্ত্রী শিল্পা (সোনিয়া মালহোত্রা) স্বামীর এই কিপটেমিতে তিতি বিরক্ত। কিন্তু কিছুতেই স্বভাব পালটাতে পারে না সে। এর মধ্যেই তার ক্যারাটে শিক্ষকের মেয়ের বিয়েতে, প্রায় জোর করেই পাঁচ হাজারি টোস্টার উপহার দেয়। বলা বাহুল্য, এই জবরদস্তি খরিদ্দদারিতে তার স্বামী রামকান্ত মোটেই খুশি হয়নি। পাঁচটি হাজার টাকার শোকে, সে বিয়েবাড়িতে কেবল ভোজ খেয়েই থামেনি, বাড়ীতে লুকিয়ে নিয়েও আসে। এর ওপর, খবর আসে যে, ওই বিয়ের রাতেই মেয়েটির বিয়ে ভেঙে গেছে – রমাকান্ত উন্মাদের মত তার টোস্টার ফেরত আনতে সেই বাড়িতে উপস্থিত হয় কিন্তু সেখান থেকে টোস্টার ইতিমধ্যেই অন্যত্র পাড়ি দেওয়ায় তার মনোবাঞ্ছা পূরণ হয় না। এবার শুরু হয় টুইস্ট- এবং টুইস্টের পর টুইস্ট। – মোটামুটি ভাবে, এই হল টোস্টার ছবির কাহিনীর মূল অংশ। ক্রমে এর সঙ্গে যুক্ত হয়, খুন – পুলিশি তদন্ত – ব্ল্যাকমেলিং ইত্যদি।
ছবিটির চিত্রনাট্য বেশ স্লো। এবং কমেডি ঘরানাকে অনুসরণ করতে গিয়ে, অর্চ্নাপূরণ সিংহকে যেভাবে ব্যবহার করা হল, তা অত্যন্ত নিরাশাব্যঞ্জক। দীর্ঘদিন বাদে, এই শক্তিশালী অভিনেত্রীকে পর্দায় পাওয়া গেল বটে, কিন্তু তাঁর চড়া দাগের ভাঁড়ামি সহ্য করা মুশকিল। রামকান্তের বন্ধু গ্লেনের ভূমিকায় অভিষেক ব্যানার্জিকে পরিচালক তেমন সুযোগ দেননি তবুও ওইটুকুতেই তিনি দুর্দান্ত কাজ করেছেন। সোনিয়া মালহোত্রা ক্রমাগত নিজেকে প্রতিভাবান হিসেবে প্রমাণ করে চলেছেন। টোস্টার এই দিক দিয়ে ব্যতিক্রম নয়। খুব ভাল লাগে তাঁকে। রাজকুমার রাওকে নিয়ে যাই বলা হোক না কেন, তারপরেও যেন তাঁর আরও খানিক প্রশংসা প্রাপ্য। ছোট্ট ভূমিকায় ফারাহ খান মানানসই।
টোস্টার ছবিটি যত এগোতে থাকে, ততই যেন খানিক এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে গল্পটা। চিত্রনাট্যের বাঁধুনি না থাকায়, ডার্ক কমেডি তো দূরের কথা, কমেডির ব্যাপারটাই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এবং এডিটিং-এ যত্ন না নেওয়ার ফলে, ছবিটি অযথা দীর্ঘ হয়েও দর্শকের বিরক্তি উৎপাদনের কারণ হয়েছে। ফলে শুরুতে যে আশা জাগিয়ে ছবিটি এগোচ্ছিল, সেই ব্যাপারটাই আর শেষে থাকেনা- এবং আমরা হতাশ হতে বাধ্য হই।
