তোমাকেই দেখছি
রতনতনু ঘাটী
মনে পড়ে প্রথম যেদিন পরিচয় হল আমাদের,
তোমাকে একটা নদী উপহার দিতে চেয়েছিলাম।
তা-না-না করে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ কী যেন খুঁজলে,
আমি বললাম ‘নদী না যদি পছন্দ,
তাহলে তোমাকে আমার ছেলেবেলার পাহাড়টাই দিই!’
তখন মনে হল, তোমার মুখগোমড়া মুখটায় যেন
সহসা শুক্লা একাদশীর চাঁদ দেখতে পেলাম।
তারপর অনেকদিন দেখা হয়নি আমাদের,
আমি জঙ্গলে জঙ্গলে দিগন্ত বিস্তৃত কুজ্ঝটি গাছপালার আড়ালে
সংসার পাতার আয়োজন করছিলাম।
আমার ডান হাতে অনটনের ভিক্ষা পাত্র, বাঁ হাতে শূন্যের দ্রাঘিমা,
রাজনীতির মানুষরা ফিকফিক করে হাসল আমার কান্ড দেখে,
কারা যেন নিঃস্ব করতে উদ্যত হল আমার চরাচর ঢুঁড়ে।
জন্মের পর এই প্রথম আমার ভীষণ ভয় করতে লাগল,
কোনও মেয়ের মুখশ্রীর দিকে ভাল করে তাকাতেই পারলাম না!
সেই থেকে অখণ্ডমণ্ডলাকারং আমি তোমাকেই দেখছি, এখনও, এখনও।
