বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সমাবেশ

আগস্ট ৩১-সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে আজ বাঙালিরা। অন্য সব ডায়াস্পোরার মত দেশান্তরী বাঙালিও তার নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রেখেছে বিদেশ-বিভুঁইয়ে, কখনো বা প্রজন্মান্তরে। বিদেশে বসেই বাংলা সাহিত্যের চর্চা শুরু করেছেন কিংবা সাহিত্যিক জীবনের কোন এক ক্ষণে প্রবাসী হয়েছেন এমন বাঙালি লেখক-সাহিত্যিকের সংখ্যা আজ আর নগণ্য নয়। যেটি এ মূহুর্তে প্রয়োজন তা হচ্ছে, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী লেখক, সাহিত্যিক, সাহিত্যামোদী সকলের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরস্পরের চিন্তা-চেতনা-চর্চার আদান প্রদান। এতে করে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার ঋদ্ধ কতটুকু হবে সেটি অনুমানসাপেক্ষ হলেও একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় ডায়াস্পোরার লেখকদের সাহিত্যচর্চার পরিবেশকে নি;সন্দেহে সমৃদ্ধ করবে এ ধরনের উদ্যোগ।

দেশান্তরী বাঙালি লেখকদের জন্য একটি প্ল্যাট্ফর্ম তৈরীর এই চিন্তা থেকেই সম্প্রতি গঠিত হয়েছে উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন রাজ্য ও প্রদেশের বাঙালি লেখক ও সাহিত্যামোদীদের নিয়ে গঠিত পরিষদ প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলাণ্টা শহরে এক “বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সমাবেশ”-এর। আটলান্টার সুপরিচিত সেবা লাইব্রেরী এগিয়ে এসেছে সমাবেশের স্থানীয় আয়োজক হিসেবে। সমাবেশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে মার্কিন লেবার ডে-র লম্বা সপ্তাহান্তে, (দু’হাজার ঊনিশের ৩১ আগস্ট আর ১ সেপ্টেম্বরে)।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে গঠিত পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন কলোরাডো নিবাসী বাংলা ভাষার খ্যাতিমান সাহিত্যিক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের সহযোগিতা ও নেতৃত্বে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে সমাবেশের বিভিন্ন পরিষদের কর্মকান্ড। পরিষদগুলোর সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন ফ্লোরিডা নিবাসী গল্পকার, কবি ডঃ শাহাব আহমেদ। চিকিৎসক শাহাব তাঁর নানা কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে সমমনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ফ্লোরিডার আরেক চিকিৎসক-সাহিত্যিক হাসানুজ্জামান দায়িত্ব নিয়েছেন তহবিল সংগ্রহ পরিষদের। সম্মেলনের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে সদা নিয়োজিত তিনি। সমাবেশ উপলক্ষে প্রকাশিতব্য সাহিত্যপত্রের সম্পাদনা ও প্রকাশনার লক্ষ্যে গঠিত পরিষদের দায়িত্বে আছেন টেনেসীতে বসবাসরত স্বনামধন্য লেখক ডাঃ হুমায়ুন কবীর। সম্মেলনের প্রচারণার কার্য পরিচালনায় গঠিত পরিষদের দায়িত্বে আছেন ভার্জিনিয়ার কবি, সংগঠক, স্থপতি আনওয়ার ইকবাল। সেবা লাইব্রেরীর প্রতিষ্ঠাতা হারুন রশিদের সমন্বয়ে স্থানীয় আয়োজক হিসেবে আটলাণ্টায় কাজ করছেন ডঃ রুদ্র শংকর, খালেদ হায়দার, হৃদয় আহমেদ, রিটন খান, ফিরোজ আহমেদ, আশফাক স্বপন, সুমন আরশাদ, রাশেদ চৌধুরী, নাসিম জাফর, শুভশ্রী নন্দী রাই সহ আরো অনেকে। আটলাণ্টার ই-সাহিত্য সাময়িকী অপার বাংলা ও তার সম্পাদক শুভ নাথ এগিয়ে এসেছেন বাংলা সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কার্যাবলির অগ্রগতি তুলে ধরা এবং সমাবেশে সার্বিক সহযোগীতা দান করার লক্ষ্যে। কালিফোর্নিয়ার লেখক-গবেষক ডঃ মোহাম্মদ ইরফান প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও দাপ্তরিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত আছেন। সমাবেশের লোগো থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিত্রকর্মে রত আছেন প্রখ্যাত চারুশিল্পী-লেখক তাজুল ইমাম। এছাড়া আছেন কানাডার স্বনামধন্য কবি-চিত্রকর রাকীব হাসান, ও ডেনভারের আর্কিটেক্ট-শিল্পী তামজিদা খান পিউ। বিভিন্ন পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দায়িত্বে আছেন এলবার্ট আইনস্টাইন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক কবি ডঃ ধনঞ্জয় সাহা, কবি, ঔপন্যাসিক ও শিক্ষক হাসানআল আব্দুল্লাহ্‌, এবং জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা ও লেখক, কবি কাজী জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সূচি প্রণয়ন ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় কাজ করে চলেছেন লেখক, বিজ্ঞানী ডঃ পূরবী বসু। সহযোগিতায় স্বাগতিক পরিষদের হারুনর রশিদ। এছাড়া সমাবেশের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যস্ত আছেন কানাডার সুপরিচিত সাহিত্যিক সাদ কামালী, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, কবি-গল্পকার নাহার মনিকা, ফ্লোরিডার লেখক, অধ্যাপক ডঃ সেজান মাহমুদ, আপস্টেট নিউইয়র্কের কবি-অনুবাদক ডাঃ জামান, কালিফোর্নিয়ার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, লেখক ডঃ দীপেন ভট্টাচার্য।, ওহাইয়োর কবি ডাঃ মঈনুদ্দীন মুনসী, শিকাগোর লেখক-কবি খায়রুল আনাম, ফিলাডেলফিয়ার কবি ও নাট্য ব্যক্তিত্য বদরুজ্জামান আলমগীর। এছাড়া কবি ও সম্পাদক কৌশিক আহমেদ এই অনুষ্ঠানের সংবাদ পরিবেশনে শুধু নয়, অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্যের জন্যে বিভিন্ন ভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

সমাবেশে অংশ নেয়ার আহ্বান ক্রমান্বয়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নানা দেশের বাংলা লেখকদের কাছে।
সাহিত্যপাঠ, সাহিত্য সংক্রান্ত কর্মশালা, সাহিত্য বিষয়ক সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা এমনি নানা ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাহিত্যিকদের পারস্পরিক যোগাযোগকে সমৃদ্ধতর করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত হচ্ছে অনুষ্ঠানসূচী। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে অনুষ্ঠানসূচিতে থাকছে পারস্পরিক জানাশোনা, বাংলা সাহিত্য সংক্রান্ত পরস্পরের কাজের সঙ্গে পরিচিতিলাভ, অন্য ভাষায় বিশেষ করে ইংরেজিতে বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ-প্রসঙ্গ ও তার অগ্রগতি, ব্যক্তি পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রবাসে সাহিত্য চর্চার অসুবিধা-সুবিধা অনুধাবন, অনাবাসী বাঙালিদের রচিত সাহিত্যের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রভৃতি নানা বিষয়। বিদেশে এমন সমাবেশ এর আগে কখনো হয়েছে জানা নেই আমাদের। আনুষ্ঠানিক এবং ঘরোয়া আলাপ-আলোচনা-আড্ডা ছাড়াও সন্ধ্যায় সীমিত সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের আয়োজন থাকবে সমাবেশে।

আমাদের এই সভা প্রচলিত বাঙালি অনুষ্ঠান বা উৎসব, মেলা, বইমেলা, পথমেলা, রাজনৈতিক সভা, সাংস্কৃতিক বা বিচিত্রা অনুষ্ঠান থেকে একেবারে আলাদা। বিশুদ্ধ বাংলা সাহিত্য নিয়ে অনুষ্ঠান করা, এবং মূলত যারা বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা ভূখন্ডের বাইরে আছেন তাদের বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে অবহিত হও্য়া সমাবেশের প্রধান লক্ষ্য। তবে অনুষ্ঠানে সকলেই আমন্ত্রিত এবং এই সমাবেশ বাংলা সাহিত্যের সকল অনুরাগীর জন্য উন্মুক্ত।

আহবায়কঃ ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত

বঙ্গসম্মেলন (এন এ বি সি) ২০১৯

প্রতি বছর বাঙালির উপস্থিতি বাড়ছে আমেরিকায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যস্ততা। তবু মনের গভীরে কোথাও যেন বাঙালিয়ানা জেগে থাকে। বাঙালিয়ানা কারও কাছে জাতিসত্তার অভ্যাস, কারও কাছে নস্টালজিয়া। আবার কারও কাছে নিজের ভাষা–‌সংস্কৃতি–‌শিকড়কে জানার ও চেনার চেষ্টা। সেইজন্য বঙ্গসম্মেলনের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রবাসী বাঙালিরা মিলিত হন। বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে জড়ো হওয়া প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার বাঙালি একসঙ্গে তিনদিন ধরে এক ছাদের নিচে উদযাপন করেন এই উৎসব। এই বছর, ৫ থেকে ৭ জুলাই ৩৯তম বঙ্গ সম্মেলন (এন এ বি সি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাল্টিমোরের সুবিশাল কনভেনশন সেন্টারে। তিনদিনের এই মহোৎসবে স্বনামধন্য বাঙালি শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও বক্তারা উপস্থিত হবেন। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এই বছর আমন্ত্রিত কবি হিসেবে থাকছেন ‘অপার বাংলা’ ওয়েব ম্যাগাজিন পরিবারের বীথি চট্টোপাধ্যায় ও রুদ্রশংকর।

 

Copyright © 2026 অপারবাংলা