যুবকের উত্তোলিত হাত

(ময়নূর রহমান বাবুল)

তোমার উত্তোলিত হাতখানা বলে দেয়
আমরা এখন কতো সুখে আছি !
এ দেশ সোনার হবে, স্বাধীন হবে; তার জন্য-
রক্ত চাই
রক্ত দিলাম,
টেনে হিঁচড়ে সম্ভ্রমও কেড়ে নিলো
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করলো গ্রামের পর গ্রাম।
তারপর-
স্বাধীনতা পেলাম ঠিকই…

অর্ধশতকের মোহনায় যখন দেশ
যখন উন্নয়নের খৈ ফুটছে চারিদিকে
শনৈঃ শনৈ যখন এগিয়ে যাচ্ছ পায়ে পায়ে
হে আমার দেশ !
তখন কেন বাজে এতো করুন বাঁশি?
তখন কেন কেউ থাকতে চায় না তোমার কোলে?
দেশ ছেড়ে পালায় ছাত্র যুবক নারী শিশু?
নানা ছল ছুতায় কেবল পালাতে চায় সকলেই?
কোল ছেড়ে পালায় তারুণ্যের তারকাগুলো?
তোমার সোনা মানিকগুলো, চুম্বক শক্তিগুলো…?
বড়লোকের সন্তানতো একজনও
ধরে রাখতে পারোনি তোমার ওম অঞ্চলে !
তারাতো আগে থেকেই
এ দেশে থাকে না, খায় না, পড়ে না
রোগ সারাতে চলে যায় বিদেশে-
বিদেশেই নেয় জীবনের শেষ নিঃশ্বাস !
তোমার জীর্ণদশায় সবাই নাক সিটকায়.. ..

ভূমধ্য সাগরের ঠান্ডা নোনাজলে
উত্থিত হাতে তোমার সন্তান
চার আঙুল দেখিয়ে কি জানিয়ে দেয়
চার মূল নীতি আর এখানে বেঁচে নেই ?
এখানে নিরাপদ বাঁচার ঠাই নাই?
এখানে সুখের আবাস কিংবা
বেঁচে থাকার পরিবেশ নাই .. ..?
গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা জাতীয়তাবাদ
নির্বাসিত কিংবা পলায়নরত আজ ?
এ দেশের কোটি কোটি যুবকের মতো ..

হে দেশ ! ভূমধ্যসাগরে যুবকের উত্তলিত হাত
তুমি তাকাও, ইটা কি মুষ্টিবদ্ধ মিছিলের হাত ?
দাবী আদায়ের ? না-
খেয়ে পরে নিরাপদ বেঁচে থাকার ?

Copyright © 2026 অপারবাংলা