rannaghar-onnorokom-rannaghar

অন্যরকম রান্নাঘর

মহুয়া সেন মুখোপাধ্যায়

ঠান্ডা ক্লান্ত দিনের শেষে হাসিমুখ আর গরম খাবার

এরকমই একটা ভেতর থেকে ঝকঝকে রোদ্দুরমাখা, আর বাইরে নির্মম ছুঁচবেঁধানো শীতল জানুয়ারির দিন ছিল। সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ পৌঁছে গেলাম গায়ে অযত্নের ছাপ মাখা আর অনেক পুরোনো দিনের গল্প লুকিয়ে থাকা বাড়িটার পিছনের দরজায়। ল্যাজারাস হাউস। অনেক বছর ধরে আমাদের এলাকার মাথার ওপরে যাদের ছাদ নেই, যারা তিন বেলা নিজের বা পরিবারের খাবার ব্যবস্থা করে উঠতে পারেন না- তাদের জন্য নিজেদের দরজা খুলে রেখেছেন। অনেক মানুষ আসেন নিয়মিত। অনেককে রাস্তার দুর্বিসহ ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচিয়ে জোর করে নিয়ে আসেন, অনেক মানুষ আসেন সন্তানের হাত ধরে, কোলে নিয়ে, বেশ কিছুদিন আত্মসম্মানের সাথে লড়াই করে, দ্বিধা পেরিয়ে অবশেষে কারোর নিজের বা প্রিয়জনের ক্ষিদে জিতে যায়। এদেরকে সামনা সামনি আমি দেখিনি, কিন্তু ল্যাজারাস হাউসের কিচেনে এরকম কিছু মানুষের  ব্রেকফাস্ট বানানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হয়েছিলাম কয়েকটি রবিবার, প্রায় আট-নয় বছর আগে। আমার তখনকার সহকর্মী নোয়েলার সাথে। কাজ শুরু করার আগে আমরা এই সংস্থার ভলান্টিয়ার কোঅর্ডিনেটরের সাথে কথা বলি। স্থির হয়, এক রোববার সকালে, ব্রেকফাস্ট তৈরী করার টিমের সাথে আমরা যোগ দেবো, মাসে দুটো রোববার আমরা কাজ করবো। আমার সাথে কথা বলে উনি বোঝেন আমার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা প্রায় শূন্য। উনি আমাকে একটা লিস্ট পাঠান আমাদের কি কি উপকরণ বাজার করে আনতে হবে। সেখানে আমাদের মতো দুজন স্বেচ্ছাসেবী এবং সংস্থার একজন কর্মচারী থাকবেন। বাইরে থেকে পুরোনো, রক্ষণাবেক্ষণবিহীন বিল্ডিংটির রান্নাঘরটি দেখে কিন্তু আমাদের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো আর মন বেশ খানিকটা উৎসাহ আর একটু আশঙ্কায় ভরে উঠলো। পারবো? প্রকান্ড একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোয়ালিটির রান্নাঘর। পাঁচটি উনুন যুক্ত দুটি ঝকঝকে স্টেনলেস স্টিলের গ্যাসস্টোভ দুদিকে। বিশাল কাউন্টারস্পেস যেখানে অন্তত তিন চারজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারে। বিশাল আকারের রেফ্রিজারেটর। ডিমের ক্রেট, বিরাট গামলা, হুইস্ক, দুধ, পাঁউরুটি, সিরিয়ালের বাক্স, জুস্ বের করে রাখা হয়েছে। কফি মেশিন তৈরী। আমাদের আনা একই উপকরণ গুলি, তৎপরতার সাথে ঢুকে গেলো আগামী দিনে পরিবেশনের জন্য। এতদিন বাদে নামগুলি মনে নেই, অভিজ্ঞ বাকি দুজন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলেন আমাদের কাজ। এপ্রন, গ্লাভস, হেডনেটে সজ্জিত হয়ে ডিম ভেঙে গামলায় ঢেলে শুরু করলাম স্ক্র্যাম্বল এগের প্রস্তুতি, নোয়েলা লেগে পড়লো সিরিয়েল ডিস্পেন্সার ভরার কাজে। এরপরের প্রায় একঘন্টা এসেম্বলি লাইনের মতো। পরপর কাজের এড্রিনালিন রাশে বাকি সবকিছু ভুলে গেছিলাম। শুধু রেডিওতে বাজছে ঝমঝমে মিউজিক। একটা বড় টেবিলে রাখা বাফে ট্রে গুলোতে ভর্তি হলো স্ক্রাম্বলড এগ আর বেকন, দুতিন রকমের পাউরুটি, দুধের জার, সিরিয়েল ডিসপেন্সারে দুরকমের সেরেয়াল, বেগেল এর প্যাকেট, ক্রিম চীজ, কলা, আপেল। কফি মেশিন থেকে ছড়িয়ে পড়লো তাজা কফির সুগন্ধ। যে টেবিলে খাবার সাজানো তার ঠিক সামনে ছিল একটি প্রকান্ড সাটার। সেটা অর্ধেক খুলে চাকা লাগানো টেবিলটিকে টেনে ওপাশে নিয়ে যেতে বুঝলাম, রান্নাঘরের ওপাশ ক্যাফেটেরিয়া, সেখানে টেবিলে টেবিলে অপেক্ষা করছেন আমাদের আজকের অতিথিরা। একঝলক বুঝলাম তাদের উপস্থিতি, একটা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লো। সাটার  বন্ধ হয়ে গেলো। পাশের একটি দরজা এক চিলতে খুলে উঁকি দিয়ে দেখছেন নিয়মিত কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক মহিলা। তার নামটা এতো বছর বাদে আমার মনে নেই, কিন্তু মাথায় হেড নেট, পরনে এপ্রন, আর কি তৃপ্তি  ভরা জ্বলজ্বলে একটা মুখ। ওখানে স্বেচ্ছাসেবীরা আড়ালেই থাকেন। আমরা ধীরে ধীরে পিছনের  দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলাম ওদের বিদায় জানিয়ে। চুপচাপ। কৃতজ্ঞতা আর নির্মল তৃপ্তি ভরা একটু আচ্ছন্ন মন নিয়ে।

স্বেচ্ছাসেবী দের ছাড়া আমেরিকার একটা দিন ও এগোবে না

স্যুপ কিচেন কি? স্যুপ কিচেনের সংখ্যা এখন আমেরিকায় পাঁচ হাজারের মতো, অভুক্ত মানুষদের জন্য রান্না করা খাবার পাওয়া যায় স্যুপ কিচেনে, আর গ্রসারি থেকে খাবারের উপকরণ জোগাড় করতে না পারলে আছে ফুড প্যান্ট্রি। সব মিলিয়ে একটা নেটওয়ার্কের মতো। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক খাবার জোগায় পাঁচ কোটিরও বেশি আমেরিকায় বসবাসকারী মানুষদের। স্যুপ কিচেনের ইতিহাস অবশ্যই শুরু হয় ইউরোপে। ১৭৫৩ সালে জন্মেছিলেন বেঞ্জামিন থম্পসন। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, তাকে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত  অভিযোগে ইংল্যান্ড পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি যান ব্যাভেরিয়া, এবং তৎকালীন ব্যাভেরিয়ান মিলিটারী এবং সরকারের জন্য এতো ভালো সংস্কারমূলক কাজ করেন যে তাকে দেওয়া হয় কাউন্ট উপাধি, নতুন নাম হয় কাউন্ট রামফোর্ড। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান আবিষ্কারক। তিনি সেই সময়ে রাস্তায় থাকা অত্যন্ত গরীব মানুষদের মিলিটারি ইউনিফর্ম তৈরী করার একটি কারখানায় নিযুক্ত করেন। সারাদিন কাজের পর ডিনারে তার  নির্দেশে বার্লি, কড়াইশুঁটি, আলু দিয়ে তৈরী হয় স্যুপ। সস্তায় পেট ভরা খাবার। কিন্তু কেন স্যুপ? সহজ সমাধান। বানানো সহজ। আর, অতিরিক্ত মানুষ এলে শুধু জলের পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া। রামফোর্ডের সেই আবিষ্কার ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে, বিশেষতঃ ইংল্যান্ডে। সহজে অনেক মানুষের পেট ভরানোর ব্যবস্থা। আর এসে পৌঁছয় আমেরিকাতেও। প্রথম স্যুপ কিচেনের হদিশ মেলে ১৮০২ সালে নিউইয়র্কে -হিউমেন সোসাইটির তৈরী করা।

 

প্রত্যেক ডিসেম্বরে আমরা যারা আমেরিকায় থাকি, গ্রসারি স্টোরগুলোর দেখি স্যালভেসন আর্মি সংস্থার একজন প্রতিভূ সান্তাক্লজের বেশ ধরে বাজিয়ে চলেছেন একটা ঘন্টা- সামনে একটি প্রকান্ড লাল কেটলি, যাতে মানুষ নিজের সাধ্য মতো টাকা, খুচরো পয়সা দান করছেন। ওই প্রকান্ড লাল কেটলিটি স্যালভেশন আর্মি সংস্থাকে যেমন মনে করিয়ে দেয়, তেমনই মনে করায় ওই প্রকান্ড কেটলিটি কিন্তু একটি স্যুপ কেটলি। ১৮৯১ সালে ক্রিস্টমাসের সময়ে সানফ্রান্সিসকোর দুঃস্থ  মানুষদের ক্রিস্টমাস ডিনার খাওয়ানোর জন্য জেসফ ম্যাকফি নাম একজন মানুষের  মাথায় একটি আইডিয়া আসে। ইংল্যান্ডের লিভারপুল থেকে দেখে আসা একটি প্রকান্ড কেটলির আইডিয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড লান্ডিঙে ‘কিপ দা পট বয়েলিং’একটি সাইন দিয়ে রেখে আসেন, একটি প্রকান্ড লাল কেটলি। আর তাতে জমা হওয়া অর্থে, এক হাজার মানুষের  খাওয়ানোর  সংস্থান হয়। স্যুপ অনেক মানুষের পেট ভরাতে পারে, তাই সময়ের সাথে সাথে স্যুপ কিচেনে অনেক অন্যান্য খাবার রান্না করা হলেও, সেই প্রথম খাবার, যা অভুক্ত বহু  মানুষদের খিদে মিটিয়েছিলো, সেই নামটি থেকে গেছে।

গরম খাবার আমেরিকার জন্য

স্যুপ কিচেন খুব ছড়িয়ে পড়ে, গ্রেট ডিপ্রেশনের সময়। স্টক মার্কেট ভয়ঙ্কর ভাবে ক্রাশ করার পর বহু মানুষ জীবিকা হারান। ১৯৩২ সালে এক কোটির বেশি মানুষ প্রায় পঁচিশ শতাংশ থেকে সাঁইত্রিশ শতাংশ মানুষ কর্মহীন। সেই সময়ে প্রচুর স্যুপ কিচেন চালু হয় চার্চ বা প্রাইভেট চ্যারিটি গুলির মাধ্যমে। যেমন ডেট্রয়েটের ক্যাপুচিন সার্ভিসেস- একদিনে দেড়হাজার থেকে তিনহাজার মানুষের খাবার যোগান দিতে থাকে। ভলান্টিয়ার্স অফ আমেরিকা আর একটি বড় চ্যারিটি সংস্থা যাদের মাধ্যমে স্যুপ কিচেন ছড়িয়ে পরে সমস্ত দেশে, বড় থেকে ছোট সমস্ত শহরে। শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত বহু মানুষ খাবারের জন্য বাধ্য হয় নির্ভর করতে স্যুপ কিচেনগুলোর ওপর। এর মধ্যে বিখ্যাত হয়ে আছে শিকাগোর কুখ্যাত গ্যাংস্টার আল কাপনের স্যুপ কিচেন। ১৯৩০ সালে যখন শিকাগোর পঁচাত্তর হাজার মানুষ জীবিকাহীন, পরের দিন কি খাবে জানেন না, সেই সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় দাতা হিসাবে সাউথ স্টেট্ স্ট্রিটে একটি স্যুপ কিচেন খোলেন। আল ক্যাপনের স্যুপ কিচেন, প্রত্যেকদিন ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার খাওয়াতো প্রায় বাইশশো শিকাগোবাসীকে। সেখানে কোনো পরিচয়পত্র দেখতে হতো না। একের বেশিবার খাবার দেওয়া হতো। একদিকে আল কাপোনের অপরাধের গল্প, অন্যদিকে তার স্যুপ কিচেন থেকে পাঁচহাজার শিকাগোবাসীকে থ্যাংক্সগিভিং ডিনার খাওয়ানো যেন রবিনহুডের গল্পকে সত্যি করে তুলেছিল।

 

আজকের আমেরিকায় আমাদের সকলের কাছাকাছি স্যুপ কিচেনগুলোর কিন্তু সব সময়েই একটা গল্প আছে। যেমন আমার কাছের বড় শহর বস্টনে হেলি হাউজ, একটি কমিউনিটি, যার মানুষরা এক জায়গায় থাকেন এবং আরো অনেক আলাদা কমিউনিটি সার্ভিসেসের সাথে তাদের স্যুপ কিচেনে সপ্তাহে ছ দিন পুষ্টিকর গরম খাবার পরিবেশন করেন। ১৯৬৬ সালে জন আর ক্যাথি ম্যাকেনা বস্টনের একটা বেসমেন্ট এপার্টমেন্টে গৃহহীন মানুষদের জন্য একটা বিছানা আর খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। সেই প্রচেষ্টা থেকে বাড়তে থাকে মানুষের সংখ্যা, তৈরী হয় কমিউনিটি, আশ্রয় খাবার দেওয়া হয় আরো লোকদের, সেই আশ্রয় পাওয়া মানুষরা আর আরো সমমনস্ক মানুষ মিলে তৈরী করে তাদের প্রথম স্যুপ  কিচেন। পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেছে, আজ হেলি হাউজের দরজা যে কোনো মানুষের জন্য খোলা। পুষ্টিকর,তাজা খাবার পরিবেশন তাদের লক্ষ্য। আর একটি শহর লোয়েলে আছে সেন্ট পল’স স্যুপ কিচেন। গভীর ভাবে ধর্মপ্রাণ রোজি আর ওয়াল্টার ব্রন্ক নামের এক দম্পতি আর জেন ওয়াটকিনস ইউনিয়ন মেথডিস্ট চার্চের বেসমেন্টে সপ্তাহের এক রাতের খাবার দেবার পরিকল্পনায় খোলেন এই ছোট্ট স্যুপ কিচেন। ধীরে ধীরে আরো বারোটি চার্চ যোগ দেয়, লোয়েল সিটি কাউন্সিল পাশে দাঁড়ায়-সপ্তাহে তিনদিন চালু হয় এই কিচেন। ২০০৫ সালে বন্ধ হয়ে যায় চার্চটি, স্যুপ কিচেনটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। স্থানীয় ব্যবসা, শহরের মিউনিসিপ্যালিটি এবং আরো চার্চ সহ বহু সংস্থার সাহায্যে সপ্তাহে পাঁচদিন  খোলা থাকে এই স্যুপ কিচেন।

আমেরিকার স্বেচ্ছাসেবী

এইভাবেই কিছু মানুষ অন্য মানুষের খিদের কথা ভেবে এরকম একটা পরিকল্পনা করেন আর সেই কাজ রূপায়ণ করার জন্য অর্থ এবং শ্রম নিয়ে তার পাশে এসে দাঁড়ায় আরো অনেক মানুষ। একইভাবে চলছে এই ধারা। সমাজের বহু ক্ষেত্রেই। সত্যি কথা বলতে কি আমার তিন দশক পেরিয়ে যাওয়া আমেরিকার জীবনের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে ভালো লাগার, শ্রদ্ধার বিষয়বস্তু কি যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আমি বলবো সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম। স্কুলের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে স্পোর্টস ইভেন্ট, কমিউনিটি পার্ক পরিষ্কার থেকে নদী বা লেক পরিষ্কার, চার্চ ইভেন্ট থেকে হাসপাতাল, ফুডপ্যান্ট্রি, স্যুপ কিচেন – স্বেচ্ছাসেবী ছাড়া একদিনও চলবে না এই দেশ। তাই মানুষ খেতে না পেলে, মাথার ওপর ছাদ স্বেচ্ছায় বা দুর্ভাগ্যবশতঃ না থাকলে, কোথাও তার জন্য গরম খাবার অপেক্ষা করছে, সেটা বানানো থেকে পরিবেশন করছে আরও কিছু মানুষ- স্বেচ্ছায় তাদের সময়, পরিশ্রম, যত্ন দিয়ে- এটা  কিন্তু এদেশে খুব স্বাভাবিক। আমার শহরের সিনিয়র সেন্টারের রান্নাঘরে তৈরী হয় ‘মিলস অন হুইলস’ অর্থাৎ অসুস্থ, বয়স্ক মানুষদের কাছে তাদের বাড়িতে যে খাবার পৌছয়, সেই খাবার। সেটা প্যাক করে নিয়ে ডেলিভারি করার জন্য তুলতে যারা আসেন তাদের মধ্যে আছেন কিছু বয়স্ক মানুষও। কি যত্নে নিয়ে যান সেই খাবার। এদের মতো মানুষ বা যারা উৎসব মরসুমে কঠিন ঠান্ডায়, গ্রসারীর পাশে বসে ঘন্টা বাজিয়ে বাজিয়ে আমাদের মনে করিয়ে দেন এই আনন্দ উৎসবের সময় অনেকের প্লেটে খাবার নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই, তাদের কথা কিন্তু ভুলো না অথবা ল্যাজারাস হাউসের স্যুপ কিচেনে কাজ করতে গিয়ে যে মহিলাকে দেখেছিলাম দরজার আড়াল থেকে দেখছেন আহাররত মানুষদের- যারা খাচ্ছেন তার রান্না করা খাবার-তার মুখের সেই গভীর তৃপ্তি… এদের মতো অজস্র সাধারণ মানুষদের মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে এই দেশের আত্মা, যাদের সবসময় জেগে থাকা চোখ, যাদের সবসময় জেগে থাকা মন নিজেদের বেঁচে থাকার বাইরে গিয়ে হাত ধরে অন্য মানুষের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *