short-story-mohaprosthan

 মহাপ্রস্থান
বিতস্তা ঘোষাল

 তারপর অর্জুন রথ থেকে নেমে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাচ্ছেন। কৃষ্ণ দৌড়ে গিয়ে তাঁকে ধরলেন।

-পার্থ তুমি কেন এভাবে ভীরুর মতো পলায়ন করছ?

-চারদিকে তাকালেই আমার সব প্রিয়জনের দেহাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই যুদ্ধ আমি করতে চাই না মাধব। এত পরিজনকে হত্যার বিনিময়ে জয় আমার দরকার নেই, বলে অর্জুন মাটিতে বসে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।

আর তখনি কৃষ্ণ তাঁকে নিজের রূপ দেখিয়ে বললেন- যাদের দেখে তুমি ভাবছ এরা তোমার, তারা কেউ তোমার নয়। সবই মায়া। এই মায়াই আমাদের সংসারে বেঁধে রাখে। তুমিও তারই অংশ মাত্র। কাজেই যাদের মৃত ভাবছ, তারা কেউ মৃত নয়। তাদের জীর্ণ শরীর ছেড়ে আত্মা কেবল পোশাক বদলে নতুন রূপে আসবে।

বিহুর ঘুম ভেঙে গেল। সে ধরমর করে উঠে বসল। শ্বাসের গতি এত জোর যে নিজেই তা শুনতে পাচ্ছে। পূর্ণ গতিতে এসি চললেও সে ঘেমে গেছে। এই অবস্থায় এক মাত্র ‘নাড়িশোধন’ প্রাণায়াম করলে ধীরে ধীরে শরীর আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে মেডিটেশন ইন্সট্রাক্টারের এই নির্দেশ মেনে এক আঙুল কপালে, আর এক আঙুল ডান নাকে রেখে বাঁ নাক দিয়ে লম্বা নিশ্বাস নিল। ডান নাক দিয়ে তা ছাড়লো। এভাবে দশ বার করার পর বুঝতে পারল তার শ্বাসের গতি স্বাভাবিক হয়েছে।

সে এবার বালিশের পাশে রাখা জলের বোতল থেকে অল্প জল পান করে ওয়াশরুমে গিয়ে ঘাড়ে মুখে জল দিয়ে ফিরে এল বিছানায়। এক পাশে কাত করে ডান পা বাঁ পায়ের উপর তুলে ঘুমচ্ছে রাতুল। বিহু নিজের হাতটা রাতুলের নাকের কাছে নিয়ে গেল। খুব ধীরে শ্বাস পড়ছে রাতুলের। আগে মানুষটা প্রবল নাক ডাকত। এই নিয়ে রোজ রাতে অশান্তি হত বিহুর।

-এই ওদিক ফিরে শোও, বলে রাতুলকে পাশ ফিরিয়ে দিত। বলা বাহুল্য সাময়িক বিরতি হলেও কয়েকমুহূর্তের মধ্যে আবার শুরু হয়ে যেত।

বিহুর ইচ্ছে করত রাতুলের নাক চেপে ধরতে। তা না পেরে রাগ দেখিয়ে বাইরের ঘরে গিয়ে খানিকক্ষণ বসে থাকলেও আবার ফিরে আসত। কান চাপা দিয়ে বাকি রাতটুকু অতিক্রম করত।  

কিন্তু অনেক মাস হয়ে হয়েছে রাতুলের সেই ভয়ংকর নাসিকা গর্জন বন্ধ। এতটাই শান্ত যে বিহু মাঝে মাঝে উঠে দেখে মানুষটা বেঁচে আছে তো! তার উপর দিন পনেরো ধরে এই অদ্ভুত স্বপ্ন রাত তিনটে থেকে চারটের মধ্যে প্রতিদিন দেখছে। শাস্ত্রে বলে এটা নাকি ব্রহ্ম মুহূর্ত। এই সময় স্বয়ং পরমাত্মা নেমে আসেন তাঁর পছন্দের সন্তানদের কাছে। এই সময়ই তাই সাধকদের কুল কুণ্ডলিনী জাগ্রত হয়।

কিন্তু সে কেন এই আজব স্বপ্ন দেখছে তার কোনো ব্যাখ্যা এই মুহূর্তে বিহুর কাছে নেই। সে আরেকবার হাতটা রাতুলের নাকের সামনে নিয়ে গিয়ে নিশ্চিন্ত হল রাতুল ঠিক আছে।

পাশের ঘর থেকে একটা মৃদু শব্দ কানে এল। সে দ্রুত পায়ে পাশের ঘরে এল। এই ঘরে জ্যেঠি শাশুড়ি বড়ো মা শোন। ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই তিনি প্রায়শই বিছানা থেকে পড়ে যান। কখনো বা দাঁড়িয়ে থেকেও হঠাৎ করে মুখ থুবড়ে পড়ে যান। কোনো কারণ ছাড়াই। সারা শরীরেই তাই তাঁর কালশিটে।

বিহু বলে- বড়মা, ভাগ্যিস দিদিভাই নিয়ম করে এসে দেখে যান। অনেকদিন পরে এলে ভাবত আমি বুঝি তোমাকে মারি।

-তাতো মেরেই রেখেছিস মুখপুড়ি। এত ভালোবাসায় যত্নে বেঁধে রেখেছিস যে যমও আমাকে আর নিচ্ছেন না।

-আবার ভুলভাল কথা বলছ?

একটু হেসে বড়মা বলেন- আর কতদিন ধরে রাখবি আমাকে? কত বয়স হল বলত! এক এক করে সবাই চলে গেল। আমার থেকে ছোটো তোর শাশুড়িও দিব্বি ড্যাঙ ড্যাং করে পাড়ি দিল।আর আমি! বলে একটা শ্বাস নিয়ে ছাড়ল পূর্ণা দেবী।

সেদিকে লক্ষ করে বিহু তাড়াতাড়ি বলে ওঠে- বড়মা, কেউ চিরস্থায়ী নয়। যখন যার সময় আসবে সে ঠিক রথে চড়ে বসবে।তার তখন সামান্য ভাবারও অবকাশ হবে না।সেই নিয়ে এত হুটোপুটির কী হল?

-না রে। নিজের শরীরটার ভার আর বইতে ভালো লাগে না।

-কেন বড়মা? তোমার বুঝি আমার কাছে থাকতে এক ফোটাও ভালো লাগে না?

পূর্ণাদেবী বিহুর থুতনিটা ধরে একটা চুমু খেয়ে বলেন- চুপ কর মুখপুড়ি।

কুড়ি বছর আগে বিহু যখন এই যৌথ পরিবারের একমাত্র ছেলের বউ হিসেবে এসেছিল, তখন থেকেই মাত্রাছাড়া ভালোবাসা পেয়েছে বড়মার থেকে।শাশুড়ির হঠাৎ করে চলে যাওয়ার পর বড়োমা খুব ভেঙে পড়েছিল।

দিদিভাই তখন এসে বলেছিল- ভাই, মা’কে কি নিয়ে চলে যাব?

-কেন?

-মেজমা নেই। বিহু কি আর দায়িত্ব নিতে পারবে?

-জামাইবাবু কী বলছেন?

-সে মুখে কিছুই বলে না। হ্যাঁ বা না – আসলে এখন পেনসনের টাকায় চলতে হয় বলে বাড়তি খরচ করতে দ্বিধা করে। তবে এটা তো আর বিলাসিতা নয়, আমার মা। তোরা যদি না রাখিস, আমাকে রাখতেই হবে।

-তোর নিজের কী ইচ্ছে?

-আমার আর কী ইচ্ছে! পরজীবি আমি। নিজে যদি চাকরি করতাম বিহুর মতো, তবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারতাম।

রাতুল বলেছিল- বেশ, আমি বড়মার আর বিহুর সঙ্গে কথা বলে তোকে জানাব।বড়মার ইচ্ছেটাই এখানে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

সেদিন দিদিভাই চলে গেছিল।

বিহু বাড়ি ফিরে বড়মার ঘরে চা নিয়ে ঢোকা মাত্র তিনি বলে উঠলেন- আজ মেঘনা এসেছিল। আমাকে নিয়ে যাবে বলছে।

-তুমি যেতে চাও?

-আমার চাওয়া না চাওয়ায় কিই বা আসে যায়! এ বাড়িতে যখন এসেছিলাম আমার বয়স বারো। চোদ্দতে মেঘনা হল। আর সতেরোতে তোমার জেঠশ্বশুর চলে গেলেন।

একটা বড় নিঃশ্বাস নিলেন তিনি।বিহু সবকিছুই জানে। রাতুলের মা, মানে তার শাশুড়ি মা লিপিকা বিয়ের পাকা কথা বলতে গিয়ে তাকে একা ডেকেছিলেন আলাদা করে। বলেছিলেন –

মা, সব যদি ঠিক থাকে তুমিই আসছ আমাদের বাড়ির এক মাত্র বউ হয়ে। সে অর্থে তোমার কোনো ঝক্কি নেই অনেক ননদ দেওরকে নিয়ে চলার।কিন্তু… বলে থেমে আবার বলেছিলেন, আমাদের সেবা যত্ন অত না করলেও চলবে। তবে একটা কথা বলি, আমার বড় জা, রাতুলের বড়মার যেন কোনো অমর্যাদা না হয়। বড়দি সতেরো বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। তোমার শ্বশুর আর আমি তাকে মায়ের মতোই সম্মান করি।তা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।

-আপনি আমাকে ঠিক কি বলতে চাইছেন বুঝতে পারলাম না।’

-এটুকুই বলতে চাইছি তিনি যেন কখনো নিজেকে আশ্রিত বলে না ভাবেন। এখন থেকে বলছি, কারণ একদিন আমাদের বয়স হবে, তখন যেন এই নিয়ে অশান্তি না হয়।মনে রেখ, এটা তাঁরও বাড়ি।’

বিহু সেদিন অবাক হয়েছিল। কিন্তু এ বাড়িতে বউ হয়ে আসার পর বুঝেছিল বড়মাকে সে নয়, বড়মাই তাঁর সেবা যত্ন নিয়ে অধিক যত্নবান। ঠিক সময়ে টিফিন গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়া, পাশে বসে খাওয়ানো, চুল বেঁধে দেওয়া… তারপর তিতলির জন্ম। বিহু বুঝতেই পারল না দুই শাশুড়ি মিলে মেয়েটাকে বড়ো করে তুলল কিভাবে! এখন সে চাকরি করছে। প্রতিদিন সে নিয়ম করে বড়আম্মার সঙ্গে গল্প করে। বিহু নিজে মেয়ের সম্পর্কে যা না জানে, তার থেকে অনেক বেশী খবর রাখেন বড়মা।

-কিরে! শুনছিস আমার কথা নাকি অন্য কিছু ভাবছিস? বড়মার কথায় অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে এল বিহু।

-হ্যাঁ বলো।

-মেঘনা বলছে, আমি থাকায় তোর অসুবিধা হচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাবে। কিন্তু এই বয়সে জামাইবাড়ি গিয়ে থাকা যায়?

বিহু অফিসে থাকতেই রাতুল ফোন করে সবই বলেছে তাকে।তখনই নিজের মত জানিয়ে দিয়েছে রাতুল ও দিদিভাইকে।

-বড়মা নিজের বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবে না দিদিভাই।তিনি এই বাড়ির মূল চালিকাশক্তি। জাগতিক নিয়মে যখন যা ঘটার ঘটবে। কিন্তু জীবিত অবস্থায় কোথাও নয়।

-বাঁচালি বিহু।

বিহু সেদিন বড়মার হাত ধরে বলেছিল- দিদিভাইকে বলো, নিশ্চিন্তে থাকতে।তুমি কোথাও যাবে না।

দেখতে দেখতে সময় নিজের খেয়ালে বয়ে যাচ্ছিল। যে মানুষটা সারাদিন এ ঘর ও ঘর করতেন আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। সঙ্গে শরীরে দানা বেঁধেছে স্নায়ুর অসুখ। একটুতেই পরে যান, পায়ে কোমড়ে বল পান না। সব সময় তদারকির জন্য রাখা হয়েছে একজন দিদিকে। বিহু বাড়ি ফেরা মাত্র তার অভিযোগ শুরু হয়ে যায় বিহুর কাছে।

-দিদি, মাসিমা একেবারেই কথা শোনেন না।

-কেন? কী দুষ্টুমি করল আমার সোনাটা? বলে বড়মার গাল টিপে দিয়ে বিহু বলল, ‘কি করেছে শুনি?’

-আঃ মুখপুরী। মেয়েটা এতক্ষণে বাসে ট্রামে ঘেমে নেয়ে বাড়ি এল, কোথায় দিদিকে জল বাতাসা দেবে, তা না শুরু হয়ে গেল বুড়ির বিরুদ্ধে লাগানি।

-দেখছ দিদি, সারাদিন আমাকে এসব বলে। শুধু তাই নয়, বলে…

কথা শেষ করতে না দিয়ে বড়মা বললেন- আঃ মলো যা! ফুলের ঘায়ে মুর্চ্ছা যাচ্ছে।

-বড়মা…

-চোখ রাঙাস কেন? কী করেছি আমি? ওই মুখপুড়ি বল কী করেছি? একটা নালিশকুটে। দাঁড়া তোকে বালিশ দেব।

বিহু দীপাদির দিকে তাকিয়ে বলল- কি করেছে সেটা তুমি বলবে কী?

-রোজ বেলা চারটে অব্দি পুজো করে। খাওয়ার কোন নাম নেই। এদিকে নামসংকীর্তন করেই যাচ্ছে।

বিহু বড়মার মুখের দিকে তাকাতেই তিনি বলে ওঠেন- নারে! মিথ্যে বলছে।

-তাহলে কটায় খাও তুমি?

-ওই তো তোরা বেড়িয়ে যাওয়ার পরেই স্নান সেরে পুজো করে খেয়ে নিই।

-হ্যাঁ। সেটা কটায়?

– বলো দিদিকে কটায় খাও?

-দীপাদি, তুমি যাও। আমি কথা বলছি।

-এখন কোনো কথা নয়। বড়মা মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলেন- স্নান করলি? মাথা ভেজাস কেন? তোর ঠান্ডা লাগার ধাত।

-বড়মা, কথা ঘুরিও না। এতক্ষণ ধরে কি পুজো করো বল তো? ঠাকুর কি বলতেন মনে নেই? খালি পেটে ধর্ম হয় না। খেয়ে নিয়েও তো জপ করা যায়

-ওরে, জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে এসেও কি খাওয়ার দিকেই মন দেব? এত টুকু ধম্ম কম্মতে মন দেব না?

-হ্যাঁ নিশ্চয়ই দেবে। কিন্তু সময় মতো খেয়ে তারপর যত খুশি তাঁকে ডাকো। কেউ বাঁধা দেবে না। কেন বুঝতে পারছ না, অবেলায় খেলে হজম হবে না, শরীর খারাপ করবে। তাছাড়া তোমার না হয় ধর্ম হচ্ছে। দীপাদির তো খিদে পায়।

মাথা নেড়ে বড়মা বলে – এ মেয়ের সারাদিন খাই খাই। যখনি দেখি মুখ চলছে। দুদিন বাদে বাদেই বিস্কুট ফোরায় কি করে বুঝিস না? এবার একটু চোখ দিয়ে দেখ। এত কষ্ট করে তোরা রোজগার করছিস, এদিকে সেই টাকায় অন্ন ধ্বংস হচ্ছে। তোকে কতবার বলি, ও বাড়ি যাবার আগে ব্যাগ দেখবি। দেখিস?

-কেন?

-তোমার মাথায় গোবর পোড়া। মশলার প্যাকেট, ডাল এত ফোরায় কি করে? কী রান্না হয় এমন?

-বড়মা তুমি আসল কথা ঘুরিয়া দিতে চাইছ এসব বলে।

-আমি আর ক-দিন! তখন বুঝবে কেন বলছি! বলে বড়মা বললেন- যা দেখি ঘরে গিয়ে এসি চালিয়ে বস। এসেই ব্যস্ত হয়ে গেল আমাকে নিয়ে। আমার অনেক কাজ এখন।

-কী কাজ?

বড়মা মোবাইল হাতে নিয়ে ইউটিউব চালিয়ে ভগবত গীতাপাঠ চালিয়ে দিয়ে বলেন- এসব না শুনলে এই মানব জন্ম থেকে মুক্তি আসবে? পরজন্মের জন্য কিছু পুণ্যি তো রাখতে হবে।

বিহু হেসে উঠে আসে।

প্রতিদিন এসব কিছু না কিছু চলতেই থাকে। প্রতি রাতেই যতবার ঘুম ভাঙে বিহু উঠে পাশে রাতুলকে দেখে নিয়ে বড়মার ঘরে যায়। কোনোদিন দেখে দুটো পা-ই বিছানা থেকে নীচের দিকে নেমে আছে। সে পা-দুটো ধরে তুলে দেয়। কখনো দেখে মুখ ফিরিয়ে অদ্ভুতভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। সে তাড়াতাড়ি গায়ে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কোনো কষ্ট হচ্ছে কিনা! আবার যেদিন কোনো শব্দ পায় না, পেটের ওঠা-নামা নেই, সেদিন নাকের কাছে হাত নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে নিঃশ্বাস পড়ছে তো!

সকালে উঠে চা পান করতে করতে বড়মা বলেন- রাতুল বিহুকে ঘুমের ট্যাবলেট দিস তো! সারারাত জেগে এ ঘর ওঘর করে। আচ্ছা নিশাচর মেয়ে। শান্তিতে মরতেও দেবে না। নাকের সামনে হাত এনে দেখা চাই বুড়ি বেঁচে আছে না মরল!

-তার মানে তুমিও জেগে থাকো, ঘুমাও না।

-আর কত ঘুমব রে! নব্বই বছর ধরে ঘুমিয়েই যাচ্ছি। এবার শেষ হোক।

-তুমি চাইলেই তো হবে না বড়মা। আমাকেও চাইতে হবে। আর আমাদের চাওয়া এখনও একশো বছর বাঁচো তুমি

বড়মা ফোকলা দাঁত নিয়ে হাসতে হাসতে কুঞ্চিত চামড়ায় হাত দিয়ে বলেন- জামাটা জীর্ণ হয়ে গেছে।

আজও স্বপ্নটা দেখে উঠে বসে বিহু বড়মার ঘরে এল। খানিকক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখে চোখের জল মুছে বড়মার মাথায় মুখে হাত বুলিয়ে ফিরে এল। রাতুলকে ডেকে বলল- বড়মা, নতুন জামা পরে নিয়েছেন। দেখবে চলো কী সুন্দর লাগছে তাঁকে।                                                   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *