স্বপ্নের উড়ানে একটি বছর পার, সত্যিই অবিশ্বাস্য। গতবছর যে শিশু ভুমিষ্ঠ হয়েছিল,একবছরে সে সাবালকত্ব প্রাপ্ত এবং প্রতিষ্ঠিত। সারাপৃথিবীর বাংলাসাহিত্যঅনুরাগী লেখক এবং পাঠকদের একই পরিবারের সদস্য করে তোলার যে ইচ্ছেডানায় ভর করে উড়াল দিয়েছিল ‘অপারবাংলা’, আজ সে থিতু হতে পেরেছে। এজন্য সকলকে অফুরান ভালোবাসা।এই একবছরে ‘অপারবাংলার’ সহযোগী হিসাবে পেয়েছি দুইবাংলার বহু বিশিষ্টজনকে,যখনই যাঁকে অনুরোধ করেছি, বিমুখ করেন নি কেউই। এই ভরসায় ভর করে আমাদের পাঠকদের আগামীতে আরো নতুন নতুন লেখার আস্বাদ দিতে,নতুন ভাবনার ভাগীদার করতে আমরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।সারাপৃথিবী জুড়ে এ বড় খারাপ সময়। রাজনৈতিক আর ধর্মীয় হিংসার ক্ষত কম বেশী সমস্ত দেশেরই বুকে। মানুষ বড় অস্থির আর অসহনশীল সর্বত্রই। প্রজ্ঞা এবং মনীষা মূল্যহীন হয়ে পড়েছে অর্থ আর পেশী শক্তির কাছে; সঙ্গে মগজ ধোলাইয়ের জন্য রয়েছে রাষ্ট্রীয় যন্তরমন্তর।এই দুঃসময়ে বড় প্রয়োজন মেধা আর মননশীলতা, প্রয়োজন সহনশীলতা। নিজের মাথা বাঁচিয়ে ছাতাটি অন্যের দিকেও এগিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে যাতে তার মাথাটিও বাঁচে। এই বোধ তখনই মনে জাগবে যখন আমরা পাসপোর্ট, ভিসার ওপারে থাকা মানুষটাকেও একজন মানুষই ভাবতে পারব, শুধু বিদেশি কিংবা শরণার্থী না ভেবে। ‘অপারবাংলা’ একটি বিশেষ মাত্রাতে অন্তরালে সেই কাজটিই করতে চাইছে,সারাবিশ্বের একভাষী মানুষকে বাঁধতে চাইছে আত্মীয়তার বন্ধনে, ভাষার টানে আত্মার সঙ্গে সম্পর্ক।এই যাত্রায় যেসব লেখক আমাদের ঋদ্ধ করেছেন ধন্যবাদ তাদের। অমর মিত্রর লেখা প্রবন্ধ বিভাগে থাকলেও , এ এক ভিন্ন পরিবেশন। ওনার আত্মকথা আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। অর্ক ভট্টাচার্যর ভ্রমণ কাহিনী ” লবস্টারের দেশে ” আমাদের দেয় সুদুর উত্তর আমেরিকার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ। বিধান রিবেরু র ” কোরিয়া পরিচালক বং জুনহোর শ্রেণী বিচার” আমাদের নতুন তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করে। আল মারুফ রাসেল এর “বাঙালির আদি খাবার” এ আমরা জানতে পারি বাঙালির রসুই ঘরের তথ্যভিত্তিক প্রত্নতাত্বিক বিশ্লেষণ। নবনীতা দেবসেন এর সম্বন্ধে কিছু না প্রকাশিত হলে পত্রিকা অসম্পূর্ণ থাকে। জয়তী রায় এর লেখা তে আমরা ওনার প্রতি শ্রধাজ্ঞ জানিয়েছি। ওনার চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের এক অপরিমেয় ক্ষতি। সুধীর দত্ত বরাবরের মতো আমাদের সাথেই আছেন ওনার আরেকটি কবিতা নিয়ে। এই সংখ্যাতে অবশেষে শেষ হলো নন্দিনী নাগের ধারাবাহিক উপন্যাস সোলমেট। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এই অসাধারণ উপন্যাস টি। আলাদা করে সব লেখকদের কথা বলতে ইচ্ছে করলেও স্থানাভাবে সবার নাম উল্লেখ করছি না। প্রতিটি লেখা সম্পাদকমণ্ডলী যত্ন সহকারে পছন্দ করেছেন। শারদীয়া সংখ্যা তে সুপ্রিয় চৌধুরীর প্রবন্ধ “হাড়কাটা টু কালীঘাট – রাতচরা পাখী” অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনো না পরে থাকলে , পড়ে ফেলুন শীঘ্রই। শারদীয়া সংখ্যার অন্য লেখা গুলোও সমপরিমান জনপ্রিয়।ধন্যবাদ পৃথিবীর বিভিন্নপ্রান্তে থাকা পাঠককূলকে, তাদের এমন নিবিড় চাওয়া যেন সবসময়ই আমাদের সাথে থাকে, থাকে যেন আরও বেশি নিঃসঙ্কোচ দাবিদাওয়া ।আমরা পত্রিকাকে আরো নতুন ভাবে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। চোখ রাখুন। আপনাদের মন্তব্য দিয়ে আমাদের আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করুন।টিম ‘অপারবাংলা’র সমস্ত সহযোগীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা।শুভ নাথসম্পাদকঅপার বাংলাএই পৃষ্ঠাটি লাইক এবং শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন
2 thoughts on “aparbangla-editorial-fourth-edition”
আপনাদের উদ্যোগে আশান্বিত।
আপনাদের উদ্যোগে আশান্বিত।