binodan-smritir-studiopara-part-21

স্মৃতির ষ্টুডিও পাড়া – পর্ব ২১
টালমাটাল টলিউড ১
প্রিয়ব্রত দত্ত
অনুপম খের ও আমি - অনুপমের বা়ংলায় কামব্যাক ছবি

 

‘খাঁ খাঁ’ কথাটার মধ্যের রিক্ততাটা কিরণ খের কখনও একজন বাঙালির মত ফুটিয়ে তুলতে পারবে! প্রশ্ন ছিল ঋতুপর্ণর।

মাস দেড়েক আগে কথা। চৌরঙ্গীর গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল। এখন যেটি ললিত গ্রেট ইস্টার্ন। বিশাল ব্যাঙ্কোয়েট। পেছনের দেওয়াল জুড়ে দৈত্যাকার ফ্লেক্স। আদপে ওটি সিনেমার টিজার। ছবির নাম শুরু থেকে শুরু। প্রযোজক অনুপম খের ও ফিরদৌসুল হাসানের ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। 

অনুপম খের। যিনি ২৬ বছর আগে ঘোষণা করেছিলেন আর কোনওদিন বাংলা ছবি প্রযোজনা করবেন না। এহেন অনুপমের ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের ‘নাটক’ দেখতে সেদিন দুদ্দাড়িয়ে ছুটে গিয়েছিলাম গ্রেট ইস্টার্নে। 

 

ফ্ল্যাশব্যাক 

একটি বাড়ি। একা এক নারী। তাঁর নিঃসঙ্গতা, অপেক্ষা, স্মৃতি আর জীবনের এক অদ্ভুত বাঁকে এসে পড়া এক চলচ্চিত্র নির্মাতার দল। সেই বাড়ির দরজা খুলে বাংলা ছবির দর্শককে এক অন্য রকম আবহে নিয়ে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ছবির নাম ‘বাড়িওয়ালি’। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সেই ছবি শুধু ঋতুপর্ণ ঘোষের চলচ্চিত্র জীবনের অন্যতম আলোচিত কাজ হয়ে থাকেনি, ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এমন এক বিতর্ক, যার রেশ বাংলা চলচ্চিত্রে আজও অব্যাহত। যেটি সেদিন উসকে দিয়ে গেলেন অনুপম খের।

বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন ছবির মুখ্য অভিনেত্রী কিরণ খের, প্রযোজক অনুপম খের এবং বাংলা ছোট ও বড় পর্দার পরিচিত অভিনেত্রী, ২০১৭ সালে প্রয়াত রীতা কয়রাল। 

প্রশ্ন ছিল একটাই, ‘বাড়িওয়ালি’-তে কিরণ খেরের কণ্ঠস্বর কি সত্যিই তাঁর নিজের? নাকি তাঁর চরিত্রের সংলাপ, কান্না, আবেগ—সবকিছুর কণ্ঠ দিয়েছিলেন রীতা কয়রাল?

 

বিতর্কের শুরু

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’-তে কিরণ খের অভিনয় করেছিলেন বনলতা চরিত্রে। চরিত্রটি ছিল একাকী, আবেগপ্রবণ এবং গভীর অন্তর্দ্বন্দ্বে থাকা এক নারীকে ঘিরে। বাংলা ভাষায় সাবলীল না হওয়া সত্ত্বেও কিরণ এই চরিত্রে ফাটিয়ে অভিনয় করেছিলেন। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরেই India Today এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিতর্কটিকে সামনে আনে বনলতার কণ্ঠস্বরটি আসলে কার? কিরণের না রীতার? আর এই প্রশ্ন যখন উঠল, তখন ছবিটি ইতিমধ্যেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছে। কিরণ খের পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। ফলে ডাবিং নিয়ে ওঠা প্রশ্নটি আর শুধুমাত্র একটি ছবির নির্মাণ-প্রক্রিয়ার প্রশ্ন থাকল না। তা হয়ে উঠল পুরস্কারের স্বচ্ছতা, অভিনেতার অভিনয় এবং কণ্ঠশিল্পীর স্বীকৃতির প্রশ্ন।

 

অগ্নিশর্মা অনুপম খের

প্রযোজক হিসেবে অনুপম খের তখন সরাসরি বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ তখন কিরণ খের ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং ছবির অন্যতম প্রধান মুখ। একই সঙ্গে ‘বাড়িওয়ালি’ ছিল তাঁর প্রযোজিত বাংলা ছবি। ক্ষুব্ধ অনুপমের মতে বিতর্ক সৃষ্টিকারীরা আসলে মূল বিষয়টিকে এইভাবে দেখছেন না যে, একজন অ-বাঙালি মূলধারার অভিনেতা বাংলায় অভিনয় করার জন্য ছয় মাস বাংলা ভাষা শিখেছেন এবং তিনি (অনুপম) নিজে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে একটি বাংলা ছবি তৈরি করেছেন। ছবিটি আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছিল। অনুপমের প্রশ্ন ছিল, এই পরিশ্রম ও সাফল্যকে অভিনন্দন না জানিয়ে কেন একজনকে হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে?

সেই ক্ষোভ থেকেই অনুপমের ঐতিহাসিক ঘোষণা— গোটা বিষয়টি তাঁর কাছে ‘লজ্জার’ এবং তিনি আর বাংলা ছবি প্রযোজনা করবেন না। অর্থাৎ অনুপমের প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিল দুটি বিষয়—এক, কিরণ খেরের অভিনয়কে তাঁর পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখানো। দুই, ‘বাড়িওয়ালি’র সাফল্যকে ডাবিং-বিতর্কের আড়ালে হারিয়ে যেতে না দেওয়ার চেষ্টা।

 

কিরণের কান্না

শোনা যায় ছবিতে তাঁর কণ্ঠস্বর বদলে দেওয়ার জন্য কিরণ খের নাকি ঘনিষ্ট মহলে কান্নাকাটিও করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ছবিতে অভিনয়ের আগে তিনি দীর্ঘ ছ’মাস ধরে বাংলা ভাষা ও উচ্চারণ অনুশীলন করেছিলেন। বাংলা ছবিতে অভিনয় করার জন্য তিনি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং বাচিক অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর নিজের যথেষ্ঠ পরিশ্রম ছিল।

 

রীতার রাগ 

বিষয়টি আরও ঘোরালো ও মুখরোচক হয়ে ওঠে অভিনেত্রী রীতা কয়রালের বোমায়। তাঁর দাবি ছিল, কিরণ খেরের চরিত্রের পুরো কণ্ঠ তিনিই দিয়েছেন। শুধু সংলাপ নয়, আবেগপূর্ণ দৃশ্য, কান্না, এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত তিনি ডাব করেছিলেন। বিশেষ করে ছবির একটি কঠিন কান্নার দৃশ্যের কথা উল্লেখ করেন রীতা।

এইভাবেই বিতর্কের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে পড়েন রীতা কয়রাল। আগুনে ঘি ঢেলে জানিয়ে দেন এই কাজের জন্য, মানে ডাবিং এর জন্য তিনি পারিশ্রমিকও পেয়েছিলেন। রীতার আরও বিস্ফোরক দাবি ছিল, স্বয়ং প্রযোজক অনুপম খেরই তাঁকে ফোন করে ডাবিংয়ের তারিখ ইত্যাদি জানতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে জাতীয় পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। বোঝো!

 

ঋতুপর্ণ ঘোষ

 

মূল সংঘাত

‘বাড়িওয়ালি’ ততদিনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছে। ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, জাতীয় পুরস্কারের জন্য ছবি জমা দেওয়ার সময় অভিনেতার নিজের কণ্ঠে অভিনয় করা হয়েছে কি না, এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। 

‘বাড়িওয়ালি’র ক্ষেত্রে কণ্ঠ নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায় মনোনয়নপত্রে ‘re-dubbed’ শব্দটি নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায়। একই সঙ্গে জুরি সদস্যদের মধ্যেও ছবির পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। যদিও কিরণ খেরই শেষ পর্যন্ত সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার পান। কিন্তু তখন ক্ষুব্ধ রীতা দাবি করেন, ‘বাড়িওয়ালি’তে তাঁর কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর অবদান কেন স্বীকৃতি পাবে না? বিতর্কের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এই যে, অভিনয় এবং কণ্ঠ—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুরির একাংশ মনে করেছিলেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা, মুখের অভিব্যক্তি এবং চরিত্র নির্মাণই প্রধান। 

রীতা পাল্টা দাবি করেন, বলা ভালো অভিযোগ করেন, যা রীতিমতো বিস্ফোরক। অভিনেত্রীর অভিযোগ, প্রযোজক অনুপম খের গোটা ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আরও বলেন, তাঁকে বিষয়টি প্রকাশ্যে না বলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। 

ঘটনার বহুদিন পর ছবির অন্যতম মুখ্য অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী সাক্ষাৎকারে আমাকে বলছিলেন, ‘বাড়িওয়ালি’-তে তাঁর কণ্ঠস্বর ডাব করেছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং রীতা কয়রাল কিরণ খেরের জন্য ডাবিং করেছিলেন বলে তিনি মনে করেন। ফলে বহু বছর পরেও ‘বাড়িওয়ালি’র ডাবিং নিয়ে প্রশ্নটি পুরোপুরি মুছে যায়নি।

আজ পিছন ফিরে দেখলে ‘বাড়িওয়ালি’র বিতর্ককে শুধু ‘কিরণ খের বনাম রীতা কয়রাল’ হিসেবে দেখলে ছবিটির ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ এখানে প্রশ্নটি ছিল অভিনয়ের সংজ্ঞা নিয়েও। একজন অভিনেতা যদি শরীর, মুখের অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা এবং চরিত্রের আবেগ দিয়ে অভিনয় করেন, কিন্তু তাঁর সংলাপ অন্য শিল্পীর কণ্ঠে দর্শকের কাছে পৌঁছয়—তবে সেই অভিনয়ের কৃতিত্ব কীভাবে ভাগ হবে?

২০০০ সালের জাতীয় পুরস্কারের বিতর্কে ঠিক এই প্রশ্নটিই সামনে এসেছিল। সমসাময়িক বিভিন্ন খবরের কাগজের প্রতিবেদনে জুরির মতভেদের কথাও প্রকাশিত হয়েছিল। একপক্ষ মনে করেছিল কিরণ খেরের অভিনয়ের শরীরী দিক এত শক্তিশালী যে কণ্ঠের প্রশ্নে তাঁর অভিনয়কে অস্বীকার করা যায় না। অন্য পক্ষ কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্যকে অভিনয়েরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছিল। আর এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই অনুপম খেরের ক্ষোভ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর চোখে ‘বাড়িওয়ালি’ ছিল বাংলা ভাষা না জানা একজন অভিনেত্রীর কঠিন প্রস্তুতির ফল এবং একজন প্রযোজকের বড় ঝুঁকি নিয়ে বাংলা ছবিতে বিনিয়োগের উদাহরণ। বিতর্কটি তাঁর কাছে সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল। স্টুডিও পাড়ায় রীতা কয়রালের সঙ্গে দেখা হতই। অবসরে আড্ডাও হত। যেমন প্রাণখোলা, মনখোলা মানুষ ছিলেন, তেমনই ছিলেন ঠোঁটকাটা। সত্যিটা মুখের উপর বলে দিতে দ্বিধা করতেন না। ‘বাড়িওয়ালি’ বিতর্কের বেশ কিছুদিন, প্রায় বছর চারেক পর কোনও এক সিরিয়ালের শ্যুটিং এর ফাঁকে সাজঘরে আড্ডায় ‘বাড়িওয়ালি’র ডাবিং প্রসঙ্গটি উঠল। আসলে রীতা কয়রাল খুব ভালো ডাবিং আর্টিস্ট ছিলেন। কণ্ঠটি ছিল চমৎকার। উচ্চারণ কাচের মত। তো সেদিন রীতা কয়রালের শ্যুটিং-এ আসতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। জিজ্ঞাসা করতে বললেন, ডাবিং ছিল, তাই দেরি হয়ে গেল। সেই সূত্রেই ‘বাড়িওয়ালি’র ডাবিং বিতর্কে প্রবেশ। রীতা কয়রাল সেদিন জানিয়েছিলেন, কিরণ খেরের কণ্ঠের অসঙ্গতি প্রথম ধরতে পেরেছিলেন গৌতম ঘোষ। তৎকালীন জুরি বোর্ডের চেয়ারপার্সন গৌতম ঘোষ কিরণের কণ্ঠ শুনে সন্দেহ করেন এবং রীতাকে ফোন করে সরাসরি জানতে চান। রীতা বলেছিলেন, ‘একদিন গৌতমদার ফোন। সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বাড়িওয়ালি’তে কিরণের গলা তুই ডাব করেছিস?  বল তাহলে। যদি তুই করে থাকিস, তোরও একটা National Award পাওনা হতে পারে।’ রীতা তখন স্বীকার করেন যে তিনিই কিরণের হয়ে ডাবিং করেছিলেন। সেই সময়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র। তিনি বলেছিলেন, ‘Personally, I feel both Rita and Kirron made the character of Bariwali convincing. Both deserve to be lauded.’ অর্থাৎ তাঁর মতে, বনলতা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কিরণের অভিনয় এবং রীতার কণ্ঠ—দু’টিরই অবদান ছিল। 

 

ঋতুপর্ণের অবস্থান

পরবর্তী সময়ে India Today-এ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাবি করে, ঋতুপর্ণ ঘোষ ঘটনাটির জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন এবং রীতা কয়রালকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। এমনকি রীতার সঙ্গে নাকি তাঁর জাতীয় পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। 

 

কেন ঋতুপর্ণ প্রথমে প্রকাশ্যে সত্য বলেননি?

India Today-র ব্যাখ্যা, ছবির প্রযোজক ছিলেন অনুপম খের। এহেন পরিস্থিতির কারণে ঋতুপর্ণর পক্ষে সেই সময়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, Times of India-র ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদনে ‘বাড়িওয়ালি’র সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশ করে। ছবির অন্যতম মুখ্য অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, তিনিও ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি প্রতিবেদনটিতে জানান, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এই ঘটনায় নিজেও অস্বস্তিতে ছিলেন। সুদীপ্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পুরস্কারের জন্য পাঠানো ছবির সংস্করণে কিরণের কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছিল! অর্থাৎ ঘটনাটির নথিবদ্ধ ইতিহাসে দু’টি পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে। 

১) রীতা কয়রাল: তিনিই কিরণের সম্পূর্ণ ডাবিং করেছিলেন। 

২) কিরণ খের: কণ্ঠ তাঁর নিজের; তিনি বাংলা শেখার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। 

৩) গৌতম ঘোষ: কিরণের কণ্ঠ শুনে রীতার কণ্ঠ বলে সন্দেহ করেছিলেন।

পরবর্তীকালে ‘বাড়িওয়ালি’ ছবির অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘I am 100% sure that it was Ritadi’s voice in the film.’ তিনি আরও জানান, রীতা তাঁকে বলেছিলেন যে ছবির প্রতিটি দৃশ্য, এমনকি জটিল ক্লাইম্যাক্সও তিনি ডাব করেছিলেন। অন্যদিকে পরিচালক গৌতম ঘোষ rediff-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল যে কিরণ খের ডাব করা কণ্ঠ ব্যবহার করেছিলেন। ২০০১ সালের সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাড়িওয়ালি’ প্রদর্শনের সময়ই তাঁর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল এবং রীতা কয়রাল দাবি করেছিলেন যে কণ্ঠটি তাঁর। 

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি কী?

বিতর্কটি আসলে ‘কে কণ্ঠ দিয়েছিলেন’—এই প্রশ্নে আটকে থাকেনি। আরও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, যিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন তাঁর নাম কেন সামনে এল না এবং জাতীয় পুরস্কারের সময় সেই তথ্য কেন বিবেচিত হল না?

কিরণ খের শেষ পর্যন্ত ‘বাড়িওয়ালি’র জন্য জাতীয় পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান। রীতা কয়রাল কোনও স্বীকৃতি পাননি। সুতরাং, ঋতুপর্ণ ঘোষের অবস্থানকে এক লাইনে ধরলে, প্রথম পর্যায়ে তিনি বিতর্কিত তথ্যটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি, এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি অনুতাপ করেছিলেন এবং রীতা কয়রালের প্রাপ্য স্বীকৃতির প্রশ্নটি মেনে নিয়েছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে রীতার সঙ্গে পুরস্কারের অর্থ ভাগ করার প্রস্তাবের কথাও প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময় ঋতুপর্ণ ঘোষকে কোনও কোনও মহল ‘ষড়যন্ত্রকারী’, ‘মিথ্যেবাদীও’ বলতে শুরু করেছিল। ছাব্বিশ বছর পেরিয়ে আজও তাই ‘বাড়িওয়ালি’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়—বাংলা সিনেমায় অভিনয়, ডাবিং, কৃতিত্ব এবং পুরস্কারের নৈতিকতা নিয়ে একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন।

রীতা কয়রাল ২০১৭ সালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর আগে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় সঞ্চালিত একটি বাংলা টেলিভিশন অনুষ্ঠানে রীতা বহু বছর আগের ঘটনাটি নিয়ে অকপটে বলেছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারের একটি পুরনো ভিডিও ২০২০ সালে আবার ভাইরাল হলে India Today, Aaj Tak এবং অন্য সংবাদমাধ্যমগুলি ‘বাড়িওয়ালি’ বিতর্কটিকে নতুন করে সামনে আনে। রীতার বক্তব্য অনুযায়ী, গৌতম ঘোষের কাছে সত্য স্বীকার করার পরই অনুপম খের তাঁকে ফোন করেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, জাতীয় পুরস্কার নিয়ে হয়তো তাঁকে অভিনন্দন জানানো হবে। কিন্তু রীতার বর্ণনা অনুযায়ী, কথোপকথনের মোড় অন্য দিকে যায়।

তাঁর দাবি ছিল, অনুপম তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ডাবিংয়ের জন্য তিনি কত টাকা পেয়েছেন। তারপর তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন, শর্ত ছিল—পরের দিন সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতা বলবেন যে তিনি ‘বাড়িওয়ালি’র ডাবিং করেননি। রীতার আরও অভিযোগ ছিল, তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাঁকে মুম্বইয়ে কাজ করতে না দেওয়া এবং কলকাতাতেও কাজের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। 

 

চিরঞ্জিৎ

 

মজার বিপরীত দৃষ্টান্ত: 

ঋতুপর্ণ ঘোষ পরে ‘চোখের বালি’-তে ঐশ্বর্যা রাইকে নিয়ে একই ভাষাগত সমস্যার মুখোমুখি হন। ২০০২ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, ঐশ্বর্যা বাংলা বলতে পারবেন না বুঝে পেশাদার শিল্পী শ্রীলা মজুমদার তাঁর কণ্ঠ দিয়েছেন। রাইমা সেনের ক্ষেত্রেও সুদীপ্তা চক্রবর্তী ডাব করেছিলেন।

আর সেই সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক মতও দেন। বলেন, “I disagree. You see, I had taken care of all the inflexions in the script.”

প্রশ্ন ছিল ডাবিং করলে অভিনয় কি অন্য এক অভিনয়ে পরিণত হয়?

ঋতুপর্ণের উত্তর ছিল, তিনি মনে করেন না যে তা অভিনয়কে খর্ব করে। বরং সঠিক কণ্ঠশিল্পী এবং পরিচালকের সঠিক নির্দেশ মিললে ডাবিং চরিত্রকে সম্পূর্ণ করে তুলতে পারে। ঐশ্বর্যার ক্ষেত্রে শ্রীলা মজুমদারের কণ্ঠ কীভাবে বিনোদিনী চরিত্রকে সম্পূর্ণ করেছিল, সে কথাও তিনি বলেন।এই সাক্ষাৎকারটি ‘বাড়িওয়ালি’ বিতর্কের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকে বোঝা  যায়, ঋতুপর্ণ নিজে ডাবিংকে কখনও স্বভাবতই ‘প্রতারণা’ বা অভিনয়ের অবমূল্যায়ন বলে মনে করতেন না। তাঁর আপত্তি ছিল না অন্য শিল্পীর কণ্ঠ ব্যবহারে; প্রশ্ন ছিল সেটি কীভাবে শিল্পসম্মত প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। রীতার অভিযোগের আর একটি দিক, স্বীকৃতি। রীতার আক্ষেপের মূল জায়গাটি ছিল টাকা নয়, তিনি চেয়েছিলেন নাম। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রীতা এই কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষত বহন করেছিলেন।

 

ঋতুদার মুখে মুখে তর্ক!

তখন সম্ভবত ২০০৪ কিংবা ‘০৫ সাল। একটি মিড ডে ডেইলির বিনোদন বিভাগের দায়িত্ব পাই। কাগজটির বিনোদনের জন্য নির্ধারিত আট পাতার মুখ্য উপদেষ্টা ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। সেই সূত্রে তখন প্রায়ই যেতে হত ঋতুদার ইন্দ্রাণী পার্কের বাড়িতে।খুব স্নেহ করতেন আমাকে। ফলে দাদা-ভাই, তার চেয়ে বেশি বন্ধুর মত একটা সম্পর্ক ছিল আমাদের মধ্যে। ওঁর ছবির গুণমুগ্ধ দর্শক আমি। কিন্তু একজন একদা নাট্যকর্মী হিসেবে কিছুতেই ঋতুদার কণ্ঠস্বর বদল আমি মেনে নিতে পারিনি। আমি মনে করি একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর বাচিক অভিনয়টাও তাঁর শারীরিক অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন মানুষ বা চরিত্রের ব্যক্তিত্ব কিংবা শারীরিক ভাষার প্রতিনিধিত্ব করে তাঁর কণ্ঠস্বর। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের গলায় যদি উত্তমকুমারের কণ্ঠস্বর বসানো হয়, মানাবে? 

ঋতুদা তখন ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’ এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। ওঁর হাতে তখন থান ইটের সাইজের মটোরোলার মোবাইল। বুঝতে পারতাম প্রায়ই তিনি ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ওই থান ইটটির মাধ্যমে কথা বলছেন। কারণ, ঋতুদা অমিতাভ বচ্চনকে ‘অমিতদা’ বলে ডাকতেন। আর ‘তুমি’ সম্মোধন করতেন। 

আমি কপট বিস্ময় প্রকাশ করে বলতাম, ‘তুমি অমিতাভকে তুমি বলো! তুই বলো না!’ 

ঋতুদা বলতেন, ‘বেশি ডেঁপোমি করিস না। আজকে কী কী ম্যাটার আছে বল। বুঝে নিয়ে ফোট তো।’ 

একদিন অমিতাভের সঙ্গে কথোপকথনের পর ফোন নামিয়ে রাখতে ঋতুদাকে ফস করে বলে বসলাম ‘আচ্ছা ঋতুদা, তুমি কি অমিতাভের ভয়েসও ডাব করাবে?’ 

কপাল কুঁচকে ঋতুদা বললেন, মানে? কী মিন করতে চাইছিস তুই?’

বললাম, ‘তুমি যে রেটে লোকের গলা চেঞ্জ করে দাও, বিশ্বাস নেই অমিতাভের গলায় হয়তো শন কনারি বা খ্রিস্টোফার লি’র ভয়েস বসিয়ে দিলে।’ 

শুনে ছিলা লাগানো ধনুকের মত সোফায় টানটান হয় বসে ঋতুদা বললেন, ‘ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে ফাজলামি হচ্ছে। আমি কেন ভয়েস ডাব করি তুই জানিস?’ 

আমি বললাম, ‘ওই ঋতুপর্ণ ঘোষ বলেই তুমি যা খুশি করার স্পেসটা এনজয় করো। কিরণ খেরের বদলে রীতা কয়রাল। ঐশ্বর্যা রাই এর গলায় শ্রীলা মজুমদার। দীপকদার (চিরঞ্জিৎ) গলায় বেনুদার (সব্যসাচী চক্রবর্তী) ভয়েস… আসলে এটা তোমার একটা এক্সপেরিমেন্ট বই কিছু নয়। তুমি ঋতুপর্ণ ঘোষ বলেই সাহসটা পাও।’ 

‘এটা এক্সপেরিমেন্ট? মূর্খ, দু-চারটে স্টেজ পারর্ফম করে তুই ভয়েস মডিলিউশন বুঝে গিয়েছিস? কিরণ যতই বাংলা শিখেছি বলে দুনিয়া ফাটাক, ও যতই পরিষ্কার বাংলায় বলুক ‘জৈষ্ঠ রোদে মাঠটা খাঁ খাঁ করছে’। এই ‘খাঁ খাঁ’ কথাটার মধ্যের রিক্ততাটা কিরণ কখনও একজন বাঙালির মত ফুটিয়ে তুলতে পারবে? কিরণ তাও বাংলা শেখার চেষ্টা করেছিল। ঐশ্বর্যাকে আমি বলেই রাজি করিয়েছিলুম। যা জানিস না, বুঝিস না আকাটের মত তর্ক করবি না।’ ‘তাহলে তুমি ওঁদের নাও কেন? গিমিক? কেন, বাংলায় বিনোদিনী করার মত কেউ ছিল না? প্রাইজ না পয়সা কিসের লোভে বম্বের আর্টিস্ট নাও?’ 

আমার তখন মাথায় ভূত চেপেছে। ঋতুদা রীতিমতো কাঁপছেন। চিৎকার করে বললেন, ‘তোর এত দুঃসাহস হয় কী করে আমার মুখে মুখে তর্ক করিস। আমার ছবি আমি কাকে নেব না নেব, কার ভয়েস রাখব না রাখব, তাতে তোর কী! বেশ করেছি, যা করেছি।’ তাল ঠুকে বললাম, ‘ ওই যে ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘ্যাম। আধুনিক সত্যজিৎ রায়। লোককে যা গেলাব তাই গিলতে বাধ্য। আর একবার কারোর গলা বদলাও, তোমার নামে এমন খিস্তি করে লিখব না…’ 

‘এই তুই এক্ষুনি এই ঘর, বাড়ি থেকে বের হয়ে যা। সোফা ছেড়ে উঠে পড়েছেন ঋতুদা। আমিও উত্তেজনায় কাঁপছি। আমাদের চেঁচামেচি শুনে রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে হাজির মাসিমা। ‘কী ব্যাপার তোদের বলতো!’ মাসিমা মানে ঋতুদার মা, আমাদের দেখে অবাক। আমার হাত ধরে এক টান মেরে বললেন, ‘এই ছেলে এদিকে এসো। লুচি, আলুর তরকারি হয়ে গেছে। রান্না ঘরে খাবার বেড়ে দিচ্ছি। খেয়ে যত খুশী মারামারি করো।’ ঋতুদাকে বললেন, ‘তোরটা এখানে পাঠিয়ে দিচ্ছি। বয়স বাড়ছে না, কমছে…!’ বলে মাসিমা আমাকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে রান্নাঘরের দিকে নিয়ে গেলেন। মাসিমার হাতের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কালো জিরে ফোড়ন দেওয়া সাদা আলুর তরকারি দিয়ে গোটা দশেক লুচি খেয়ে মুখ মুছতে মুছতে আবার ঋতুদার স্টাডিতে ঢুকতেই আমার দিকে থমথমে মুখে তাকিয়ে বললেন, ‘ধর যদি অমিতদার গলাও বদলে দিই, আমার সম্মর্কে কী লিখবি তুই?’ আমি হেসে ফেললাম। এমন আপনভোলা মানুষ আমি আর দেখিনি। বললাম, ‘পায়ে পড়ি ঋতুদা তোমার… অমিতাভকে ছেড়ে দাও।’ আমার বলার ধরন দেখে হো হো হেসে উঠলেন ঋতুদা। বললেন, ‘আমি দেখতে চাই দুটো মানুষের ভিন্ন সত্তা দিয়ে একটা স্বতন্ত্র চরিত্র নির্মাণ করা যায় কিনা।’ আমি বললাম, ‘পেরেছ?’  এক গ্রাস লুচি তরকারি মুখে পুরে মাথা নেড়ে বললেন, ‘এখনও না… পেট ভরে খেয়েছিস তো?’ পাশে বসে বললাম, ‘সরি ঋতুদা… কিছু মনে কোরো না…’, আমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ধুর… বোস… আজকের ম্যাটার বার কর… ইনফ্যাক্ট এইভাবে আজ পর্যন্ত আমায় কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি… প্রশ্ন করেছে… চ্যালেঞ্জ করেনি।’ 

ঋতুদার আর একটা ফোন আসতেই বিষয়টা তখনকার মতো, বলা ভাল চিরকালের মত ধামা চাপা পড়ে গেল। 

 

বাড়িওয়ালি ছবির দৃশ্য

 

অনুপম খের উস্কে দিলেন ছাব্বিশ বছর আগের স্মৃতি।

সেদিন অনুপম খেরকে দেখছিলাম আর ছাব্বিশ বছর আগেকার কথা ভাবছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে অনুপমকে মনে করিয়ে দিলাম ছাব্বিশ বছর আগের প্রতিজ্ঞার কথাটা। বললেন, ‘অতীতকে আমি আর টেনে আনতে চাই না। আই মিস ঋতুপর্ণ।’

‘বাড়িওয়ালি’ করার সময় ঋতুপর্ণর বাড়িতে রাত কাটানোর স্মৃতিতে ডুবে গেলেন অনুপম। বললেন, ‘আজকে ঋতু বেঁচে থাকলে আবার ওঁর সঙ্গে ছবি করতাম।’

অতএব ‘বাড়িওয়ালি’র বিতর্কের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়তো এই যে, একটি অসাধারণ অভিনয়ের ইতিহাসের পাশে একটি অস্পষ্ট কণ্ঠের ইতিহাস এসে দাঁড়িয়েছে। কিরণ খের বনলতাকে শরীর দিয়েছিলেন। রীতা কয়রাল দিয়েছিলেন সেই বনলতার শ্রুতিমান অস্তিত্ব। ঋতুপর্ণ ঘোষ তৈরি করেছিলেন দু’জনের কাজকে এক চরিত্রে মিলিয়ে দেওয়ার চলচ্চিত্র-ভাষা। রীতা পেলেন না স্বীকৃতি। ঋতুপর্ণ পেলেন না তৃপ্তি। তবুও ‘বাড়িওয়ালি’ আজও শুধু ঋতুপর্ণ ঘোষের একটি স্মরণীয় ছবি নয়, এটি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনেতার মুখ এবং ডাবিং শিল্পীর কণ্ঠের মালিকানা, স্বীকৃতি এবং পুরস্কারের ন্যায্যতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

সেটা অনুভব করেই কি অনুতপ্ত অনুপমের বাংলায় প্রত্যাবর্তন? সময় বলবে…।

 

বাড়িওয়ালি ছবির দৃশ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *