Editorial-Fifth-Edition

সম্পাদকীয়



আমরা একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম, একটা ভুবনগ্রামের স্বপ্ন যেখানে সমস্ত বাংলাভাষী একই সূত্রে গাঁথা থাকবে, সেই সুর তাদের মাতৃভাষার সুর।
তখনও আমরা কি জানতাম প্রকৃতির রয়েছে আরো বড় পরিকল্পনা, যার সাহায্যে সে শুধু বাংলাভাষীদের নয়, গোটা ভুবনকে করে ফেলবে একই নৌকার যাত্রী?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন ‘বিগ ব্যাং’ এর অবধারিত ‘বিগ ক্রাঞ্চ’। আমরা কি বড় বেশি ছড়িয়ে পড়েছিলাম?
এত বেশি গর্বিত পদচারণা করেছিলাম বিশ্ব জুড়ে যে তাতে পৃথিবীর শান্তির সাধনায় ঘটেছিল বড় বেশি ব্যাঘাত? পৃথিবীটা যে কেবল মানুষের জন্য বা মানুষকে নিয়ে নয়, স্পর্ধিত ভাবনায় সে কথা মানুষ ভুলতে বসেছিল বলেই কি প্রকৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ছড়ানো ডানা গুটাতে বাধ্য করে ফিরিয়ে দিচ্ছে আবার মায়ের কোলে?
জানা নেই।
তবে এটুকু বুঝতে আমাদের কারো অসুবিধা হবারই কথা নয়, বিশ্বের বিশালতার নিরিখে আমরা কিছুই নই, যা হবার তা হবেই, আমরা তার গতি বা প্রকৃতিকে কোনোরকমভাবেই প্রভাবিত করতে পারব না। তাই তো, এই প্রথমবার বাঙালি পয়লা বৈশাখকে উদযাপন করল ১লা বৈশাখ হিসাবে।
তবে কি আমরা ছেড়ে দেব সব প্রচেষ্টা? গুটিয়ে নেব হাত, ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে?
সে ও অসম্ভব। আমাদের চেতনা বলে যে, এই যে আমাদের জীবন, এ এক আশ্চর্য উপহার, যতই দুর্যোগ আসুক না কেন, তাকে অতিক্রম করে যাওয়াই জীবনের নিশ্চিত নিয়ম।
তাই তো, এই কঠিন সময়েও “অপার বাংলা” প্রকাশিত, সমস্ত সহযোগী বন্ধুদের হাত ধরে। কারন আমরা তো জীবিত, আর জীবিত মানুষের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়ের পরেই আসে মনের খিদে মেটানোর তাগিদ।
সারা পৃথিবীতে এখন একই সাথে রাত্রি নেমেছে, অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশের ব্যবধান গেছে মুছে।
তবে স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা তো কেউ কেড়ে নেয়নি! আমরা স্বপ্ন দেখি, খুব শিগগিরই পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে মুছে যাবে এই গভীর যন্ত্রণার ক্ষত, সারা পৃথিবী আবার হেসে উঠবে ঝলমলে দিনের আলোয়।

এবারের সংখ্যাতে স্বভাবতই বিশ্ব জোড়া উদ্বেগ এবং ত্রাসের ছাপ রয়েছে বিভিন্ন লেখকের কলমে। চুমকি চট্ট্যোপাধ্যায়ের আত্মকথা তে তাঁর করোনা নিয়ে উৎকন্ঠা সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল হই , তা অনেকের চিন্তার সাথেই মিলে মিশে যায়। মোজাফ্ফর হোসেন ও জয়তী রায়ের অনুগল্প আমাদের ভাবতে শেখায় নতুন করে ভালোলাগাগুলোকে নিয়ে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। রওশন রুবীর গল্পে দেখতে পাই এই মহামারীর কি অন্তিম পরিনীতি। এমনটি হয়ত বা সত্যিই কোথাও এক সাজানো সংসারকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। বিভিন্ন কবিদের কলমে ফুটে উঠেছে এই ভয়াবহ সময়ের নির্মম সত্যি। আবার সৈকত মুখোপাধ্যায়ের গল্প পড়লে মন ভালো হয়ে যায়; করোনা লকড ডাউনের সময়েও অনেক সুন্দর প্রেমের জন্ম নিয়ে।

এই কঠিন সময়ে অনেকেই লেখায় একদম উৎসাহ পাচ্ছিলেন না। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই তাদের এই হাল না ছাড়া মনোভাবে নিয়ে কলম ধরার জন্য। পৃথিবী নিত্য বহমান। আমরা থেমে থাকতে পারি না। শুভ ইচ্ছে আর সুচিন্তার জয় হবেই। আমরা আবার আমাদের পুরোনো পৃথিবী ফিরে পাবো। জগৎ আবার দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।

পাঠকদের জন্য এবার আমরা নতুন ভাবে এনেছি আমাদের পুরোনো সংস্করণগুলো। আলাদা ভাবে সবগুলো সংস্করণ পড়তে পারবেন উপরে মেনু বার থেকে ক্লিক করলেই। আমরা “বিবিধ” অধ্যায় শুরু করেছি ; যেখানে আত্মকথা বা রম্যরচনা পড়তে পারবেন।

সবাই সুস্থ থাকুন , সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন , পৃথিবীকে নতুন আলোর দিশা দেখানোর দায়িত্ব আমরা সবাই ভাগ করি নিই।

ধন্যবাদ ,
শুভ নাথ
সম্পাদক
অপারবাংলা

1 thought on “Editorial-Fifth-Edition”

  1. আপনাদের ই ম্যাগাজিন ভাল লাগল। তবে লেখা পাঠানোর জন্য কোন মেল আই ডি দিলেন না কেন বুঝলাম না। আপনারা কি এটা শুধু সীমিত লেখকদের জন্য শুরু করেছেন। এই ব্যাপারে একটু আলোকপাত করলে খুশি হবো। শুভেচ্ছা রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *