micro-story-choitonyo-hok

চৈতন্য হোক

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী

অনেকদিন পরে এক বিকেলে বাড়ি গেলাম। বউ-বাচ্চা নিয়ে আমি আলাদা থাকি। মাঝে মাঝে গিয়ে অশীতিপর বাবা-মাকে দেখে আসি। মা কিছু পারে না। বাবা-ই সব করে।

মা বলল, তোর ছোটমামা এসেছিল।

কেন?

এমনি। গল্প করার জন্যে।

আর কী কথা হল?

কারা বেঁচে আছে, আর কারা কারা নেই।

মা এক প্যাকেট মোমবাতি দিল। ছোটমামার কারখানার। আগে মুদিখানা ছিল ছোটমামার। সেটা তুলে দিয়ে মোমবাতি বানানোর কারবার খুলেছে।

বাবা বলল, লাউটাও নিয়ে যা। আমাদের কে খাবে?

লাউ কে দিল?

কদিন আগে তোর দাদা এসেছিল, দিয়ে গেছে। দশ বিঘে জমি কিনেছে তোর দাদা। ধনেখালির ওদিকে। পুকুর কাটিয়েছে। তাতে মাছ ছেড়েছে। জমিতে লাউ, পালং, পুঁই, আলুচাষ করে। ওদের তো শনি-রবি ছুটি; তোর দাদা গাড়ি চালিয়ে বউমা আর মেয়েকে নিয়ে চলে যায়, ওই দু-দিন ওখানে থেকে আবার রাজারহাটের ফ্ল্যাটে ফিরে যায়। এখন তোর দাদার আই.টি. কোম্পানি দাদাকে আমেরিকা পাঠালে এইসব যে জমিজমা করেছে, তা কে দেখবে বলতো!

আমি চুপ করে থাকি।  

তুই ভাত খাবি না?

না। খেয়ে এসেছি।

ও! নাতিটার জন্য বড্ড মন খারাপ করে। আনবি একদিন?

আনব। 

আনিস। ওকে অনেকদিন দেখি না…

তারপরে অটো, ট্রেন পেরিয়ে নামলাম। ফিরছি। ট্রেন থেকে নেমে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই আমার নতুন ফ্ল্যাট। 

ফুটপাতে একটি কালী মন্দির। দাঁড়িয়ে গেলাম। মনটা মোচড় দিল। বললাম, বাবা-মাকে ভালো রেখো ঠাকুর।

তখনই চোখে পড়ল মন্দির-গাত্রের লেখাটি।

তোমাদের চৈতন্য হোক।

1 thought on “micro-story-choitonyo-hok

  1. তা চৈতন্য হল আর কই? বাবা-মাকে তাহলে তো কাছে নিয়ে আসত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *