মাছের কাঁটা
মহুয়া মীল
রাতে মুখোমুখি খেতে বসেছেন জয়দীপ আর মণিকা। একজন মাছভাত। একজন চিঁড়ে সেদ্ধ। জয়দীপ দেখছেন মণিকার খাওয়া। মণিকা খাচ্ছে। বড় যত্নে। একটা একটা করে কাঁটা বেছে থালার কোণায় রাখছে। সার সার সাজিয়ে। পেটির দিকটায় এখনো হাত দেয়নি। গাদার দিক থেকে ছোট্ট ছোট্ট করে মাছ ভেঙে ভাতের দলার সঙ্গে মুখে দিচ্ছে। কাঁটার ভয়ে মণিকা মাছ খায় না। একমাত্র ব্যতিক্রম ইলিশ। কিন্তু বছরে ক’দিনই-বা আর…
নিজের গলায় একটা কাঁটার খচখচানি টের পান জয়দীপ।
হঠাৎ চোখ তুলে জয়দীপকে তাকিয়ে থাকতে দেখে লজ্জার লালিমা ছোঁয় ছাপ্পান্ন’র গাল। জয়দীপ দেখলেন সেই-ই অষ্টাদশীকে। লাজুক, শান্ত কিন্তু জেদি মেয়েটাকে। বংশের বনেদিয়ানা, বাবা, দাদার শাসন নস্যাৎ করে যে অনায়াসে জয়দীপের হাত ধরেছিল।
সময় স্বাভাবিক করেছে সম্পর্ককে। আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে দু’বাড়ির মধ্যে। মণিকার দাদার সদ্য বিবাহিত মেয়ে – জামাইয়ের জন্যই আয়োজন হয়েছিল আজ। ইলিশ, চিংড়ি, খাসির মাংস। দই, মিষ্টি তো আছেই। মধ্যবিত্তের পক্ষে মহার্ঘ। অবসরপ্রাপ্ত জয়দীপের পেনসন নেই। সুদের সিংহভাগের দাবিদার ওষুধের বিল। সাধ আর সাধ্যের সামঞ্জস্য রাখতে অগত্যা পরিমাণে আপোষ। এ’ সিজনের প্রথম ইলিশের তাই গোনাগুনতি পিস।
এই মুহূর্তে মণিকাকে দেখতে দেখতে জয়দীপের মনে হচ্ছে দুপুরে পেটখারাপের নাটক করে নিজের মাছের পিসটা বাঁচানো সার্থক হয়েছে। কাঁটার খচখচানিটাও যেন আর তেমন জানান দিচ্ছে না। তবে কি চিঁড়ের দলার সঙ্গে…..
