micro-story-setu

সেতু

মহুয়া মীল

 ছেলে দুটো স্ট্রেচারের দু’দিক ধরে সেটাকে খাটের সমান্তরালে নিয়ে এল। খাট আর স্ট্রেচারের মাঝে তাও ইঞ্চিখানেক ফাঁক। অভিরূপের পিঠের নীচ দিয়ে একটা চাদর ঢুকিয়ে বেশ কায়দা করে অন্য দুজন ওকে স্টেচারে তুলে দিল। ওরা অবশ্য ‘বডি’ বলছিল। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ’ঘটনায়, রিমা যেন পাথর! ওর গালে তখনও শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ। চোখে শূন্য দৃষ্টি। খাটে বসেছিল ও। স্টেচারটা ঘর থেকে বের করা মাত্রই ও ব্যস্ত পায়ে খাট থেকে নামল।

“ডানদিকটা একটু খেয়াল রাখবেন।”

সিঁড়ির রেলিঙের উল্টোদিকের দেওয়ালে ঝোলানো মধুবনী পেন্টিংটায় চোখ রিমার, ওদের নতুন দিনের সাক্ষী।

“আপনার, হ্যাঁ, আপনার কনুইটা একটু সামলে।”

চড়িদায় গিয়ে এই মুখোশটাই পছন্দ করেছিল অভি।

“একটু সাবধানে, ঘোড়াটা বাঁচিয়ে।”

 সিঁড়ির বাঁকে বাঁকুড়ার ঘোড়া। অফিস ট্যুরে গিয়ে কিনে এনেছিল অভিরূপ।

 স্টেচারটা দোতলা থেকে একতলায় সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছনো অবধি রিমার এরকম নির্দেশ আসতে থাকল স্ট্রেচার -বাহকদের উদ্দেশ্যে।

এ এক অপরিচিত বিদায় দৃশ্য! ভিড়ের ভিতর গুঞ্জন। শোকের আবহেও অনুচ্চ বক্রোক্তি ভাসছে।

এসব কিছুই রিমাকে ছুঁতে পারছে না। সে জানে দু’জন দু’পারে থাকলে এভাবেই সেতু আগলে রাখতে হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *