মহাকাব্য: একটি উদ্যত ভল্ল
প্রবাহ: ৭০
আমাদের দ্বীপ-বর্ষ
সুধীর দত্ত
ছায়াপথ বরাবর এই যে সৈকত, এসো, এবার একটু
অন্য দাওয়ায় বসি, যেমন পাড়া-গাঁ’রা রোদ পোহায়
শীতের সকালে। সামনে এক বিশাল দীর্ঘিকা, চিকচিক
করছে জল, শান্ত কুয়াশা, গলে যাচ্ছে একটু একটু
করে। বিনষ্ট হয় না কিছু? রূপান্তর? দৃশ্যমান সবই
এক একটি চিহ্ন, অপ্রকাশ, যা বাস্তব তারই এক
অবাস্তব ছায়া, এক একটি দৃশ্যকল্প? আয়নার সামনে
দাঁড়ালে তুমি আর তুমি নও। নক্ষত্র-নির্মিত
হাওয়ামণ্ডলের ভিতর একটি খোলস? শরীর তখন
আর শরীর নয়, অণু থেকে অণুতর, বেগবান
ডানাহীন একটি বিহঙ্গ চারদিকে আলো, বায়ু আর
তেজমণ্ডল। চারদিকে মাটি ও বিপুল জলরাশি।
প্রকৃত প্রস্তাবে, এক আনন্দঘন আ আ শব্দ। আমিই
যেন সেই আদি পিতা, প্রজাপতি অ্যাব্রাহাম,
জান্নাতকে এই ধূলিমলিন মাটিতে উড়িয়ে নিয়ে
এসেছি বারবার, একটি স্বপ্ন–বস্তু ও পরাবাস্তবের
মধ্যবর্তী সাঁকো, এক অন্তহীন সঙ্গীত, কখনও ঊর্ধ্বের
দিকে ধীরে ধীরে উড়ে গেছি, কখনও বা ঢেউ আর
প্রতি-ঢেউ, গড়ে তুলেছি সমবেত একটি মূর্ছনা। এ
এক সমুদ্রের তীর, ভেঙে পড়া বালিয়াড়ি, কাজু
বাদামের নিঃসঙ্গ বন।
বারবার ফিরে এসেছি এই লাল কাঁকড়ার দেশে, হা
শরীর, কী কঠিন তোমার বেষ্টন, দাঁড়াতে হয়েছে
পৃথিবীর এই নাভিকেন্দ্রে, একটি চৌম্বক ক্ষেত্র-দ্বীপ ও
বর্ষ যুগপৎ, আর এই ভূ-কৈলাস, উড়িয়ে নিয়ে আসা
অক্ষরের এক স্থাপত্য। কতবার যে দুমড়ে মুচড়ে গেছে
এই পৃথিবী, ফাটল জেগেছে আগুনের, মানুষ তা জানে
না।
মেরুর চারদিকে দ্বীপ, দ্বীপান্তে সাগর। বহু ভাঙা-
গড়াময় এই জম্বুদ্বীপ, কিম্পুরুষ বর্ষ থেকে কুরু,
মাঝখানে ইলাবৃত, আশপাশে হরি ও ভদ্রাশ্ববর্ষ,
কেতুমাল, উপরে রম্যক। আমাদের দ্বীপ-বর্ষ ভূমণ্ডলে
ছড়িয়ে পড়েছে।
