অলৌকিক
অরুণিমা
অভ্যর্থনা থেকে এক একটা বিদায় জানানোর সময় পর্যন্ত মাঝখানে ঘটেছে যা কিছু
তাকে আক্ষরিক ধরেছি যখন তোমার অক্ষরে ফুটেছে ফুল, প্রিয় বন্য গন্ধের।
অঙ্গীকারে অক্ষর ফুটিয়েছি আমিও, ছত্রে ছত্রে ব্যক্ত করেছি নিবেদনে পরিণত হৃদয়।
তখনও অধরা সোহাগের ছোঁয়াটুকু অনাস্বাদিত বলে ব্যবহৃত শরীর থেকে
আলাদা করে দিয়েছি আনকোরা মনের অংশটুকু।
প্রতিটা বিদায়ের পর বিনা ক্ষতিতেই কখনও মাঝে ফিরে এসেছ আবার পূজায়
বিস্বাদে আর বিতৃষ্ণায়!
ছুঁড়েছ অভক্তির ফুল বাম হস্ত
ওগো চাঁদ, আমার আকাশে তখন যে সূর্যাস্ত!
অভক্তির পূজায় তবু প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছি নতুন করে নিজেই নিজের,
এত অল্পেই যে তুষ্ট।
ক্ষণস্থায়ী সেসব অপমান ঝড়া ফুলের মতোই ঝরে গেছে,
এমনই প্রগাঢ় ছিলে শিকড়ে।
বিস্ময় বটগাছ বছর বছর ধরে ঝুড়ি নামালে
স্থায়িত্ব যেমন স্বমহিমায়, আর অস্তিত্ব যেমন গভীরে!
তেমনই আশ্চর্য কোনও এক কৌশলে হৃদয় খুঁড়ে নেমেছ তুমি
অসংযত দ্রুত।
সমস্ত লজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে আতরের গন্ধে শ্বাস নিয়েছি খোলা কাঁধে.
এমন সব রাতজাগা সঙ্গমকে নাম দিয়েছি অনিদ্রা।
প্রতিটা মিলনের শেষে করতলে রাখা এক পশলা বৃষ্টির
দুঃসাহসী স্নানকে জড়িয়ে নিয়েছি নগ্ন শরীরে।
