Poem – BhagobanParbo

 

                              ভগবানপর্ব

                                              (নির্মলেন্দু গুইন)

♦

মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে গেলে
আমি ভগবানকে ডাকি–“ভগবান?
ভগবান? ও ভগবান?”
আমি ডাকি তাঁকে, শিশুরা যেমন
নামের নেশায় ডাকে মাকে।

আমি ডাকের উত্তর না পেয়ে ভাবি,
ভগবান কি আমাকে চেনেন?
তিনি কি বোঝেন আমার ভাষা?

আস্তিক আর নাস্তিক সংকটে
এ-ও এক বড়ো প্রশ্ন বটে।

কে জানে? আমি কোন ছার?
ভগবান নিজেই কি জানেন–
তিনি কে?
তিনি কী?
তিনি কার?

আমি তো দেখিনি কোনোদিন
ভগবান দেখতে কেমন।
মানুষের নাম কি
মানুষের গায়ে লেখা থাকে?
অথবা ফুলের নাম ফুলের পরাগে?

না, থাকে না। না, থাকে না।
তাই, এমনও তো হতে পারে,
আমি তাঁরে দেখেও চিনিনি।
অন্য-কেউ, অন্য-কিছু ভেবে
আমি তাঁরে পাশ কেটে
গিয়েছি এড়িয়ে।

মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে, পৃথিবীতে এসে
কোনো দৈবদুর্বিপাকে বিচ্ছিন্ন সন্তান
কীভাবে চিনবে তার জনক-জননীকে?
জনক-জননীইবা চিনবে কী ক’রে,
তাদের সন্তান যদি ক্রমে-ক্রমে বড় হয়
আদরে বা অনাদরে, অন্য কারও ঘরে?

মনে হয় আমার হয়েছে সেই দশা।
ভগবানও চিনেন না আমারে।
আমিও চিনি না তাঁরে।
এভাবেই পৃথিবীটা স্থির হয়ে ছিলো।
আজ রাতে কী যে হলো?
মনে হলো আমি তাঁরে দেখেছি সহসা।

♦
নয়াগাঁও
২৬/০৫/১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *