poem-kalponik-vorer-aalo

কাল্পনিক ভোরের আলো

আশিস গিরি

 

স্বপ্নের ফুটপাত ঘেঁষে এক নিঃসঙ্গ ঘোড়া হেঁটে যায়, তার খুরের শব্দে কেঁপে ওঠে মৃত শহরের নীরবতা,

আমাদের ছায়ারা খুলে ফেলে নিজেদের রূপোলি পোশাক, জমা হতে থাকে পারদের ঠাণ্ডা নদীতে।

তুমি যখন আমার কপালে হাত রাখলে, অমনি দেওয়ালের নীল রঙ গলে একটা সমুদ্র হয়ে গেল,

সেই সমুদ্রে ভাসতে থাকল কিছু না-পোড়ানো চিঠি আর আমাদের ফেলে আসা ছেলেবেলার ঘড়ি।

​মহাশূন্যের শেষ তলায় একটা অন্ধ পিয়ানো বাজছে, তার সুরগুলো লাল কাঁচপোকা হয়ে উড়ছে বাতাসে,

আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক অবাস্তব করিডোরে, যেখানে সময় পেছনের দিকে হেঁটে চলে সন্তর্পণে।

তোমার খোলা চুলের গন্ধে নেমে এল শতাব্দীর পুরোনো এক মখমলি রাত,

যার বুকে লুকিয়ে ছিল বরফের ডানাওলা কিছু অচেনা পাখি আর আতরের দীর্ঘশ্বাস।

​নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে ক্যাফে আর প্রাচীন রেস্তোরাঁ, তার কাঁচের জানালায় আটকে পড়া মরীচিকা-তারা,

ছায়াশূন্য দরজায় মৃদু করাঘাত করে হারিয়ে যাওয়া কোনো জাদুকর।

আমরা হেঁটে চলেছি মাথার ওপর ঝুলন্ত এক ছাদের খাঁজে, নিচে অতল শূন্যের বিস্তার,

যেখানে ব্যাকুল রোমাঞ্চ জমে বরফ হয়ে যায় আর শেষ অবধি জেগে থাকে এক কাল্পনিক ভোরের আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *