নিষ্কৃতি
মোহনা মজুমদার
তবু মায়াময় এই ক্ষয়কাতরতা! কে বাঁধো, পাথরে পাথর? বিস্মৃতি? এই তো সেবা-শুশ্রূষা, মলম লাগিয়ে পুরোনো ক্ষত দিব্যি সারিয়ে তুলছ ধীরে ধীরে। বোঝোনি, মায়াসর্প সুরঙ্গপথে ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমশ। আভোগ নেই জেনেও, এতো আত্মবিশ্বাস? অনিবার্য ছিল? ভেবেছিলে টোটেম দিয়ে ঠিক বাঁচিয়ে তুলবে আবার, আবার, বারবার। হাঁ-প্রণয়, অরণ্য নেই নদী আছে। অন্তঃশীলা।
ছাড়ো, নির্ভার হও। কোরকে স্থির হয়ে আছে আলজিভ। আধখাওয়া আপেলের গায়ে কুয়াশার বুদবুদ যেভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে থাকে। দূরের লাইটহাউসে পচে যায় সুগন্ধি স্বপ্ন, শিহরিত আলো। শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভাবার কিছু নেই। সংসার শেষে একদিন দেখবে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে ভরে গেছে মণিপদ্মের গোটা মস্তিষ্ক, ধমণী, হৃদপিণ্ড, ত্বক। শরীরময় দগদগে ঘা। শুধু প্রাণটা ধুঁকছে ভেতরে। এ দৃশ্য দেখা যায় না। বুকে যন্ত্রণা চেপে বুঝবে হেরে গেছ। ওঁ যুদ্ধ, ওঁ শূন্য !
একেই কি তবে নিষ্কৃতি বলে?
মাথায় হাত বুলিয়ে বল তবে এবার “সাবধানে যেও!”
