micro-story-ilish-pantar-noboborsho

ইলিশ পান্তার নববর্ষ
অমিতা মজুমদার

ইলিশ ভাজার গন্ধে ম ম করছে পুরো ঘর। আজাদ একবার রান্নাঘরে উঁকি দিয়েছে, ফারহানা গরমে ঘেমে নেয়ে মাছ ভাজছে। ভাত রেঁধেছে পান্তা করবে বলে। পয়লা বৈশাখ আর পান্তা ইলিশ হবে না সেটা কি হয়? অফিসে, টুকুনের স্কুলে, পাশের ফ্লাটের রুমাভাবীর কাছে প্রেস্টিজ থাকবে না তাহলে। ইউটিউব দেখে ভর্তাও বানিয়েছে কয়েকটা।

ফারহানা মাছভাজা শেষে ভাতে পানি ঢেলে দিয়ে ঢেকে রেখে রান্নাঘর গুছিয়ে সোজা বাথরুমে। গোছল সেরে নেয়। সকালে পান্তা ইলিশ খেয়ে বেরিয়ে পড়বে। রঙ মিলিয়ে নিজেদের, টুকুনের পোশাক কিনেছে, সাথে চুড়ি মালা দুল টিপ এমনকি পায়ের স্যান্ডেলও। ফারহানার সবকিছু প্ল্যান করা, তাই আজাদের কোনো কথা বলা চলবে না।

ফজরের নামাজ শেষে আজ আজাদ ছাদে উঠেছিল। পুব আকাশে বছরের প্রথম দিনের সূর্য তার রক্তিম আভা ছড়িয়ে আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। সেদিকে চেয়ে আজাদের অনেক কথা মনে পড়ল। ছোট্ট আজাদ বাবার হাত ধরে গ্রামের স্কুলের মাঠে মেলায় যেত। বাঁশি, বেলুন, প্লাস্টিকের বল, আর মায়ের জন্য তিব্বত স্নো, পাউডার, সাবান কিনত বাবা খুব যত্ন করে। নিজের জন্য  সুরমা আর আতর কিনত। সুরেশ ময়রার দোকানে বসিয়ে মিষ্টি ও জিলিপি খাওয়াতো পেটপুরে। এছাড়াও কাঠি আইসক্রিম, কিনে দিতো। এদিন বাবা একেবারে অন্য মানুষ। কিছুতেই না করত না। বায়োস্কোপের বাক্সের ফুটোয় চোখ রেখে ছবি দেখার সে কি উত্তেজনা।

একটু রাতে বাঁশিতে ফুঁ দিতে দিতে বাবার হাত ধরে বাড়ি ফেরা। টুকুনটা এসব কিছুই দেখতে পেলো না। ছাপোষা নাগরিক জীবন থেকে এসব কবেই হারিয়ে গেছে।

ছাদ থেকে এসে দেখে ফারহানা ও টুকুন তৈরি। আজাদকে তাড়া দিলো রেডি হয়ে নাও। ফিরে এসে গোসল করবে। এখন পান্তা ইলিশ খেয়ে বেরিয়ে পড়ব।আজাদ খাবার টেবিলে বসে, মাটির সানকিতে বেশ বড়ো সাইজের একখানা ইলিশ মাছ আর কয়েকরকম ভর্তা, কাঁচামরিচ পান্তাভাত সাজিয়ে সামনে দেয় ফারহানা। নিজেদের জন্যও নেয়। আজাদ খেতে শুরু করতেই ফারহানা থামিয়ে দেয়, আরে ছবি তুলে নেই ফেসবুকে পোস্ট করতে হবে তো!

ইলিশ মাছ মুখে দিতেই আজাদের মনে পড়ল আগামীকাল অফিসে গেলেই হয়তো ধরা পড়ে যাবে পাঁচ হাজার টাকা ক্যাশবাক্সে কম আছে।

অফিস থেকে বেরিয়ে একজোড়া ইলিশ কিনেছিল পাঁচহাজার টাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *