নিটশের সঙ্গে, একদিন
পার্থজিৎ চন্দ
যিনি সদ্যজাত তাঁর সন্তান-ধারণের আকাঙ্ক্ষা থাকবেই, তিনি
নিজে অনুভব করতে চাইবেন গর্ভের তীব্র যন্ত্রণা-
মাসাইমারার এক ছোট্ট কটেজে নিটশের মুখোমুখি বসে
যখন এ কথা শুনছিলাম তখন আফ্রিকার সূর্য
অস্ত যাচ্ছে। তাঁর চোখের ভেতর দিয়ে বসে যাচ্ছে রুক্ষ নদী,
ভাঙা নৌকায় গরীব ধীরব, অথচ জলের ভেতর ঝকঝক করছে
সোনার বইঠা। কোথাও কবর খোঁড়ার গান স্থির হয়ে আছে।
নিটশে বলছিলেন, এই যে তারা ভরা আকাশের নীচে
মহাপরিযান… প্রথমে জেব্রারা এসে উঁচু আর কর্কশ ঘাসগুলি খাবে,
তারপর ওয়াইল্ডবিস্টের দল; সব শেষে
আরও নরম ঘাসের খোঁজে আসবে গ্যাজেল।
মাসাইমারার জঙ্গলে, তখন সন্ধে, কিছুক্ষণ থেমে,
নিটশে বললেন, যদি আমি পৃথিবীর স্বর্গীয় টেবিলে বসে
ঈশ্বরের সঙ্গে দাবা খেলি, আর
মাটি ভেদ করে উঠে আসে আগুনের স্রোত…
ওই জঙ্গলে দেখো, জটিল জেব্রারা, কোটি বছরের পর, একদিন
তাদের জ্যামিতি ফেলে রেখে যাবে
