prabandho-protyakhan

প্রত্যাখ্যান
রোহিণী ধর্মপাল

 

না মানে না। No means no। মনে হচ্ছে যদি ‘Pink’ সিনেমার ওই শেষ দিকটুকুতে অমিতাভ আইনজীবীর যে চরিত্রটি করেছিলেন, তাঁর মুখের ভাব, গলার স্বরটি কাগজের পাতায় তুলে ধরতে পারতাম! ধীর গম্ভীর গলায় মাথা নিচু করে শুরু করে আস্তে আস্তে মাথা উঁচু করে বলা কথাগুলো। তবে সে তো আপনারা চাইলেই দেখে নিতে পারবেন। তার চেয়ে বরং এমন কিছু “না” এর গল্প বলি, যা আপনারা চাইলেই দেখতে পাবেন না। আর সেই ‘না’ বলাগুলিতে অমিতাভের চরিত্রটির মত কোনো উকিল কিন্তু ছিলো না। বরং ছিলো একটি মেয়ে। কখনো রাজকন্যা, কখনো রাজবধূ, কখনো জনজাতির কোনো মেয়ে, কখনো অরণ্যচারিণী।

তবে অপরদিকে ছিলো সেই একই লিঙ্গ, যে লিঙ্গটির স্বাভাবিক আচরণ, মজা করার ইচ্ছেকেও নোংরা মানসিকতা রূপে ধরা হয়েছিল এবং ধরেই নেওয়া হয়েছিল বিছানায় আসতে আর শরীরী মিলনেও তাদের আপত্তি হওয়ার কথা নয়। না বলাটাই বস্তুত তাদের প্রধান অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর যে গল্পগুলো বলবো সেখানে না বলার জায়গায় যারা ছিলো, তারা ছিলো একা। সভা মধ্যেও একা। জলে জঙ্গলেও একা। শুধু নিজের জোরে অপরকে প্রত্যাখ্যান নয়, অন্যের না বলাকেও যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা। এও আরেক প্রকার প্রত্যাখ্যানই। তোমার কথায় যুক্তি, কারণ না থাকলে মানবো কেন? এমন শক্ত মেরুদণ্ডের বেশ কিছু গল্প রয়েছে আমাদের মহাকাব্যের গল্পগুলোতে।

রামায়ণ দিয়েই শুরু করি আগে। ভরত আর শত্রুঘ্ন মামার বাড়ি গেছে। সেই সময়ে দশরথ তড়িঘড়ি রামের অভিষেকের আয়োজন করলেন। সারা রাজপ্রাসাদ জানল। কিন্তু কৈকেয়ী জানলেন না। তিনি জানলেন মন্থরার মুখ থেকে। এই লেখায় দশরথ কেন এমন হঠাৎ করে রামের অভিষেকের আয়োজন করেছিলেন তা নিয়ে আলোচনা করবো না। সেটা আজকে লেখার বিষয় নয় কিন্তু দশরথ শুধুমাত্র কৈকেয়ীর জেদের কাছে হার মেনেই রামের বনবাসের বিধান মেনে নিয়েছিলেন এমনটা কখনোই নয়। কৈকেয়ীকে আমরা সহজেই ভিলেন বানিয়ে দিতে পারি। বানিয়ে দিয়েছিও।

প্রত্যাখানের বিষয়টির ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে কোন বিষয়ে না বলাটাও যেমন মেয়েদের ক্ষেত্রে সহজভাবে আমরা মেনে নিই না। ঠিক তেমনি মেয়েদের নিজেদের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানানোটাও আমরা ঠিক মেনে নিতে পারি না। আসলে না বলতে না পারাটা জোরালোভাবে হ্যাঁ বলতে না পারাটারই আরেকটি দিক মাত্র। তাই আমি দু’একটি ঘটনার কথা বলবো যেখানে মেয়েটি নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পুরুষটি বরং বারবার আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও মেয়েটি নিজের মনের ইচ্ছেকে এতোটুকু টলতে দেয়নি।

রামের কাছে যখন খবর গেলো, তাকে বনবাসে যেতে হবে, সে প্রথমেই গেল সীতার কাছে দেখা করতে। চোদ্দ বছর যে প্রিয়াকে আর দেখতে পাবে না! নিজের মনেই সে ধরে নিয়েছিল যে তাকে একাই যেতে হবে। রাজপ্রাসাদের স্বাচ্ছন্দ ছেড়ে সীতা কখনোই বনের প্রতি মুহূর্তের অনিশ্চয়তাকে বেছে নেবে না। সীতা যখন সব শুনলো, রাম রাজা হওয়ার বদলে বনে যাচ্ছে শুনে তার আলাদা কোনো প্রতিক্রিয়া হলোই না। বরং উচ্ছ্বসিত হয়ে নিজেই বলল বনে সেও যাবে। প্রাসাদের এই জাঁকজমকের আড়ম্বর থেকে দুজনে একসঙ্গে নতুন করে পাবে পরস্পরকে। রাম হিংস্র বুনো জন্তুর ভয় দেখালো। নানাভাবে বারণ করলো। শেষে সীতা বললো, তুমি অমন করছো কেন? মেয়েরা শুনেছি ভয় পায় সহজে। তুমি তো সেইরকম আচরণ করছো! রাম সীতার কথা শুনতে বাধ্য হলো। অবশ্য মনে মনে খুশিও হলো খুব।

হ্যাঁ! এবার হয়তো নানা মুনি বলবে দেখেছো মেয়ের কেমন জেদ! ওই জেদেই ওর সর্বনাশ হল। এইসব দূর্মুখরা চিরকাল আছে। এখন যেমন ধর্ষণের ক্ষেত্রে নানা ভাবে মেয়েটির দিকেই আঙ্গুল তোলে সমাজ! আর হিসেবনিকেশ করে যে ধর্ষককে মেয়েটি কতটা প্রলোভন দেখিয়েছিলো! 

পরের যে ঘটনাটি বলবো, সেটি মহাভারতের। ঘটনাটি ঘটেছিল অর্জুনের প্রথম বনবাসে কাটানোর সময়। দ্রৌপদীর সঙ্গে পাঁচ ভাইয়ের বিয়ে হওয়ার পর নিয়ম করা হয়েছিল যখন দ্রৌপদী যে ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে থাকবেন, সেই সময় তারা দুজন একসঙ্গে থাকলে অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বছর দ্রৌপদী ছিলেন যুধিষ্ঠিরের স্ত্রী। তাঁরা দুজন কোন একদিন অস্ত্রাগারে বসে কথা বলছিলেন, সেই সময় অর্জুনকে বাধ্য হয়ে অনুমতির কথা না ভেবেই দ্রুত ঢুকে পড়তে হয় এবং বনবাসেও যেতে হয়। বনবাসের মাঝেই এক অরণ্যে স্নান করে ওঠা অর্জুনকে দেখে কামার্ত হয়ে ওঠে নাগ জাতির কন্যা উলূপী। এবং ভাবা যায়? মেয়েটি নিজেই অর্জুনকে জানায় সে কথা। অর্জুন নিজের ব্রহ্মচর্য পালনের কথা জানায়। কিন্তু মেয়েটি যুক্তি দেয়, তুমি তো দ্রৌপদীর ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ। অন্য কোনো মেয়ের জন্যে তো নও। সুতরাং এক রাতের জন্য তুমি আমার সঙ্গী হতেই পারো। বিশেষ করে যখন সন্তান কামনা পূরণের জন্যও আমি তোমায় ডাকছি। 

মহাভারত যে মহাভারত হলো, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ হলো, একই পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে, মূলত জমি এবং গো সম্পদ নিয়ে, সেখানে যখন মৃতস্বামী রানিদের নিয়োগ প্রথার মাধ্যমে গর্ভবতী করার পরিকল্পনা নিয়েছিল তাদের শাশুড়ি সত্যবতী, তখন কিন্তু রানিদের সেই পুরুষটিকে বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়নি। হলে, হয়তো এমন বিশাল কাণ্ড হতোই না। অথচ, বনের একটি মেয়ে, কেমন অবলীলায় নিজের মনের কথাটি স্পষ্ট করে বলে, পুরুষটির না কে হ্যাঁ তে পরিণত করে নিজের ইচ্ছে পুরণ করে নিলো!

এবার আসি সরাসরি প্রত্যাখ্যানে। এখানেও রামায়ণকে দিয়েই শুরু করা যাক। সীতাকে তো কৌশল করে একা করে দিয়ে সুযোগ বুঝে কিডন্যাপ করে চম্পট দিলো দশানন। ভেবেছিলো লংকায় গিয়ে নিজের এমন দাপট দেখাবে যে সীতা নয় লোভে পড়ে রাবণের প্রস্তাবে রাজি হবে অথবা একা বিদেশ বিভূইয়ে ভয়ে পেয়ে, উপায়ন্তর না দেখে হ্যাঁ বলে দেবে। সীতাকে রাখা হলো অশোককাননে। রাবণের যতো অনুচারী মেয়েরা ঘিরে রইলো সীতাকে। তাদের কাজ ছিলো সারাক্ষণ রাবণের শৌর্য বীর্য, বিপুল ধনের বিবরণ দিয়ে লোভ দেখানো বা ভয় দেখানো। রাবণ নিজে এসে বারবার সীতাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে। সীতার সাফ কথা, নিজের বৌয়ের দিকে বরং মন দাও। নিজের বউ ছেড়ে অন্যদিকে মন দিলে সবাই ধিক্কার দেয় তাকে। তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ পেয়েছে আর লঙ্কাতেও সৎ পরামর্শ দেবার লোকের অভাব বোঝাই যাচ্ছে। রাম লক্ষণের হাতে তুমি আর তোমার সোনার লঙ্কা শেষ হয়ে যাবে। সীতার দৃঢ়তা রাবণকেও আটকে দিয়েছে। যে রাবণ নিজের শক্তির জোরে সবাইকে আতঙ্কে রেখেছিলো, সেই রাবণ সীতার না-এর কাছে মাথা নিচু করেছিল।

আরো দুটি প্রত্যাখ্যান আছে রামায়ণে। এমন প্রত্যক্ষ ভাবে নয়। তবে সেই না-এর জোর আরো মারাত্মক। বিশেষ করে শেষেরটি। যুদ্ধ শেষ। এবার সীতা আসবে রামের কাছে। দীর্ঘদিন পর দেখা হচ্ছে দুজনের। সেখানে রাম বলে কিনা, তাও আবার সকলের সামনে, তোমার মত অপরূপাকে হাতে পেয়ে রাবণ তো ছেড়ে দেয়নি সুতরাং তোমাকে আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়! তুমি বরং এক কাজ করো। লক্ষণ ভরত শত্রুঘ্ন সুগ্রীব বা বিভীষণ যাকে খুশি বিয়ে করোগে! 

কতটা উন্মত্তের মতো কথা বলেছিল রাম। সীতাকে ফিরিয়ে নিলে যদি রঘুবংশ কলঙ্কিত হয় তাহলে লক্ষণের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবই বা দেয় কি করে! কিন্তু সে সহজ মেয়ে তো ছিল না। সীতা সবার সামনেই রামকে বলল, ছোটলোকের মতো কথা বলছো তুমি। এই যদি তোমার মনের কথা হয়, হনুমানকে যখন পাঠিয়েছিলে তখনই বলতে যে আমাকে তুমি আর গ্রহণ করবে না ঠিক করেছ! আমাকে কেউ জোর করে অপহরণ করলে আমার দোষ কোথায়? তোমাকে লোকে চরিত্রজ্ঞ বলে। কই আমার মহৎ চরিত্র তো তুমি বুঝলেই না! সীতার এই উত্তর কিন্তু প্রত্যাখ্যানের থেকে কিছু কম ছিলো না।

সীতার সবথেকে বড় প্রত্যাখ্যানটা লেখা এখনো বাকি আছে। এমন এক প্রত্যাখ্যান যা যেকোন মানুষের জন্যই অসম্ভব কঠিন। একটি মেয়ের জন্য আরও বেশি। কারণ সাধারণত মেয়েরা তাদের বিবাহিত সঙ্গী এবং সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত বেশি দুর্বল হয়। প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি তাই বহু ক্ষেত্রেই তাদের শত অন্যায়ও মুখ বন্ধ করে মেনে নেয়। হাসিমুখে চুপ করে থাকে। বাইরের কেউ বুঝতেই পারে না মেয়েটির মধ্যে কি প্রবল যন্ত্রণার ঝড় চলেছে। এমনকি, এই আধুনিক সময়ও আমাদের দেশের মেয়েদের মধ্যে এইভাবটাই প্রবল। তার জন্য সমাজ কিছু কম দায়ী নয়। বরং এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজই দায়ী। কয়েক হাজার বছর আগের সমাজ যেমন মেয়েদের দিকে আঙ্গুল তুলতে দ্বিধা করতো না, এখন বোধহয় সেই আঙ্গুলের সংখ্যা কমার বদলে আরো বেড়ে গেছে।

আমি মনে করি যে কোন সাহিত্যে সীতা প্রথম সেই মেয়ে, যে চরিত্রটি স্বামীকে দেবতার মত ভক্তি করে উন্মত্তের মতো ভালোবেসেও শেষ পর্যন্ত নিজের সম্মান বজায় রেখেছিল। প্রত্যাখ্যান করেছিল রামকে। রামরাজ্যকে। চিরকালের মতো। সীতার পাতালপ্রবেশকে প্রত্যাখ্যান ছাড়া আর কোন ভাবেই আমি ব্যাখ্যা করতে পারি না।

রাম প্রেম, অযোধ্যা কর্তব্য, লব কুশ বাৎসল্য, কোন বাঁধনই সীতাকে আটকাতে পারেনি। আমরা মেয়েরা বড্ড আঁকড়ে থাকা স্বভাবের। ছাড়তে পারি না সহজে। ভাবি ভালোবাসা দিয়ে স্নেহ দিয়ে প্রেম দিয়ে সেবা দিয়ে, সব তিক্ততা সব মালিন্য মুছে দেবো। আমরা ভুলে যাই অধিকাংশ পুরুষের কাছে তার শেষ প্রেম হলো নিজের সামাজিক প্রতিষ্ঠা। আর কিছু না থাকলেও তার নিজের জেদ। প্রবলে অহম।

রামায়ণের ছোট বড় আরো অনেক না বলার কাহিনী রয়েছে। তবে এবার আমরা চলে যাব মহাকাব্য মহাভারতের দুটি প্রত্যাখ্যানে। প্রথমটির স্থান দ্রৌপদীর স্বয়ংবর সভা। যখন সারা আর্যাবর্ত থেকে আসা বড় বড় রাজা রাজপুত্র সবাই দ্রুপদের রাখা ধনুটিতে গুণ পড়াতে পর্যন্ত পারছেন, না ছিটকে যাচ্ছেন, সেই সময় এগিয়ে এলেন কর্ণ। এবং অসীম বাহুবলে ধনুটি তুললেন, গুণ পড়ালেন। সভার সকল লোক উন্মুখ হয়ে উঠল। কর্ণের শারীরিক ভঙ্গি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তিনি হয়তো লক্ষ্যভেদ করতে পারবেন। এমত অবস্থায় সভার সম্মুখে দ্রৌপদী কর্ণকে প্রত্যাখ্যান করলেন। বললেন আমি সূতজাতীয়কে বিয়ে করব না। হ্যাঁ অবশ্যই এই প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে বর্ণ ভেদাভেদের তীব্র বিষ রয়েছে। কিন্তু অন্যভাবে দেখতে গেলে যদি ভাবি যে একটি মেয়ে সকলের সামনে যাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে বরণ করে নিতে পারবে না বলে মনে করেছে, তাকে অনায়াসে না বলতে পেরেছে। এখনো পর্যন্ত সমাজের চিত্র যা, সেখানে মেয়েদের নিজের মতামতকে কতখানি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা আমরা সকলেই জানি। অথচ সেই যুগে, আমরা সাহিত্যে হলেও এমন একটি মেয়ের কথা জানতে পারছি যে সর্বসমক্ষে নিজের মনের কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে পেরেছিল এবং বাকিরাও কেউ তার কথার কোন প্রতিবাদ করেনি। কর্ণ নিজেও না। যদিও মহাভারতের অন্য কোন একটি সংস্করণে পাই যে কর্ণ গুণ পরাতেই ব্যর্থ হয়েছিলেন।

এবার আসি সেই পুরুষটির কথায়, যার প্রত্যাখ্যান দিয়ে লেখাটি শেষ করব। পুরুষটি হলেন মহাভারতের অন্যতম রমণীমনোহর পুরুষ অর্জুন। পান্ডবদের বনবাসের সময় অর্জুনকে যুধিষ্ঠির পরামর্শ দিয়েছিলেন দিব্য অস্ত্র সংগ্রহে অভিযানে বেরতে। সেই নির্দেশ মান্য করেই অর্জুন গিয়ে পৌঁছন দেব লোকে। সেখানেই ইন্দ্রের রাজসভায় অর্জুনকে দেখেন উর্বশী। যে উর্বশীর রূপে গানের সুরে নৃত্যের ছন্দে দেবলোক মুগ্ধ, সেই ঊর্বশী মুগ্ধ হলেন অর্জুনকে দেখে এবং অর্জুনের সঙ্গ প্রার্থনা করলেন। যে অর্জুনকে আমরা চিনি, অন্যভাবে মনে করি মেয়েদের প্রতি অর্জনের চিরকাল দুর্বলতা রয়েছে, সেই অর্জুন কিন্তু এইরকম প্রস্তাব পেয়েও উর্বশীকে না বললেন। ঊর্বশীর কথা শুনে নিজের দুই হাতে দুই কান চেপে উত্তর দিলেন, ছি ছি দেবী এ কী কথা বলছেন আপনি। আপনি আমার গুরু পত্নী তুল্য। একথা শোনাও যে পাপ। কারণ আপনি পৌরবংশের প্রথম জননী। আপনি আমার বংশের আদি কারণ। আপনি আমার কাছে মায়ের মত। অর্জুনের প্রত্যাখ্যান ঊর্বশী কিন্তু সহ্য করতে পারেননি তবুও অর্জুন নিজের ‘না’তে অটল ছিলেন।

রামায়ণের মতোই মহাভারতেও আরো অনেক প্রত্যাখ্যানের গল্প আছে। সেগুলিও কম বিস্ময়কর না। তবে বলার এটুকুই, নিজের না হ্যাঁ, দুইই স্পষ্ট ভাবে বলতে পারলে অনেক জটিলতা, অনেক অন্ধকারকে এড়ানো যায়। বিশেষ করে, ২০২৬ সালেও যখন দেখি, এমনকী আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর মেয়েরাও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে মাথা নিচু করে কখনো পরিবার কখনো সমাজের অন্যায় মুখ বুঝে মেনে নিচ্ছে, তখন রাগ হয়। মনে হয়, আসলে কতটুকুই বা এগোতে পেরেছি আমরা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *